রাজশাহীর পুঠিয়ায় ভালুকগাছি মুক্তিযোদ্ধা স্কুলের শিক্ষকদের কার্যালয়ে তালার ওপর আরেকটি তালা দেওয়ার পাশাপাশি প্রধান ফটকে বাঁশের বেড়া দিয়েছেন ব্যবস্থাপনা কমিটির সাবেক দাতা সদস্য আজাদ আলী। বিদ্যালয়ের মাঠে লাগিয়েছেন কলাগাছও। শনিবার (৩ অক্টোবর) সাপ্তাহিক ছুটির দিনে লোকজন নিয়ে তিনি এসব করেন।
আজাদ আলীর দাবি, প্রতিষ্ঠানটিতে টেকনিক্যাল কলেজ করে তাঁর ছেলে ও পুত্রবধূকে চাকরি দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু টেকনিক্যাল কলেজ হয়নি এবং তাঁর পুত্রবধূকেও চাকরি দেওয়া হয়নি। এ কারণেই তিনি বিদ্যালয়ে তালা ও মাঠে কলাগাছ লাগিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
তবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেলিম রেজা তাঁর এ বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন। তিনি বলেন, আজাদ আলী নিঃশর্তভাবে প্রতিষ্ঠানে জমি দান করেছিলেন এবং ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা দিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম চালু করতে বলেছিলেন।
আন্তর্জাতিক হার্ট ডে উপলক্ষে কে জি এন মেডিকেয়ারের ফ্রি হেলথ ক্যাম্প
প্রধান শিক্ষকের ভাষ্য অনুযায়ী, স্থাপনা নির্মাণের পর প্রতিষ্ঠানের নামে জমি রেজিস্ট্রি করতে গেলে আজাদ আলী ভোকেশনাল শাখায় তাঁর ছেলে এবং কলেজ শাখায় পুত্রবধূর চাকরি দাবি করেন। কমিটি তাতে সম্মতি দেয়। কলেজ শাখা চালু হতে দেরি হওয়ায় তাঁর পুত্রবধূকে প্রাথমিক শাখায় সহকারী শিক্ষক হিসেবে চাকরিতে নেওয়া হয়। চাকরিরত অবস্থায় ২০২২ সালে তিনি মারা যান। পরে ছেলের দ্বিতীয় স্ত্রীকেও মাধ্যমিক শাখার কেরানি পদে চাকরি দেওয়ার বিষয়ে কমিটি সম্মতি দেয় বলে দাবি করেন প্রধান শিক্ষক।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠানটির নাম ছিল ‘মুক্তিযোদ্ধা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ’। প্রতিষ্ঠার সময় প্রাক-প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত পাঠদানের পরিকল্পনা থাকলেও উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত পাঠদানের অনুমতি ছিল না। তখন শুধু প্রাথমিক পর্যায়ে পাঠদান চলত।
পরবর্তী সময়ে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তনের জন্য চিঠি দেওয়া হলে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় এর নাম রাখা হয় ‘ভালুকগাছি মুক্তিযোদ্ধা স্কুল’। বিদ্যালয় সূত্রের দাবি, তৎকালীন দাতা সদস্য আজাদ আলী নিজেই এ নাম প্রস্তাব করেছিলেন এবং তা সভার রেজুলেশনে উল্লেখ রয়েছে।
২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠানটি নিম্নমাধ্যমিকের অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদানের অনুমতি পায়। তবে এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি। বর্তমানে প্রাথমিক পর্যায়ের পাশাপাশি ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে শিক্ষার্থীরা পড়ছে।
স্থানীয় দোকানি লাল মোহাম্মদ বলেন, বিদ্যালয়ে নিয়মিত ক্লাস হয়। শনিবার আজাদ আলী এমনভাবে প্রধান ফটকে বেড়া দিয়েছেন যে স্থানীয়রা বিদ্যালয়ের নলকূপের পানিও নিতে পারছেন না।
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও ভালুকগাছি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, সাবেক দাতা সদস্যের দাবি সঠিক নয়। প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী রয়েছে এবং নিয়মিত পাঠদান চলছে। গত মাসের ১০ তারিখে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড নতুন ম্যানেজিং কমিটির অনুমোদন দিয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রধান শিক্ষক জানান, প্রতিষ্ঠানটির নাম নিয়ে আজাদ আলী ২০২৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর রাজশাহীর আদালতে একটি মামলা করেন। মামলাটি বর্তমানে চলমান।
পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিয়াকত সালমান জানিয়েছেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত। বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন। ফিরে বিদ্যালয়টি চালু করার ব্যবস্থা করবেন। তাঁর ভাষ্য, পেছনে যে ঘটনাই থাকুক, শিক্ষার্থী থাকলে কোনো ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে পারবেন না।