ইতালি পাঠানোর প্রলোভনে অর্থ নেওয়ার অভিযোগে মানবপাচারের চার মামলার পলাতক দুই ভাই-বোনকে গ্রেপ্তার করেছে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর থানা-পুলিশ। শুক্রবার (২ অক্টোবর) সিলেটের শাহপরান থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
ইউটিউব-ফেসবুক দেশের ক্ষতির অন্যতম কারণ: চিফ হুইপ
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন জগন্নাথপুর উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের সাদীপুর গ্রামের মনফর আলীর মেয়ে মোছা. শোবি বেগম (৩০) ও তার ভাই শামছুল (২৮)। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, জগন্নাথপুর থানায় মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে করা চারটি মামলায় তারা পলাতক ছিলেন।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জগন্নাথপুর থানা-পুলিশের একটি দল সিলেটের শাহপরান থানা এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানের একপর্যায়ে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারের পর তাদের বিরুদ্ধে বিদেশ পাঠানোর নামে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ নিয়ে কয়েকজন ভুক্তভোগীর বক্তব্য সামনে এসেছে।
জগন্নাথপুর বাজারের ব্যবসায়ী খেলন ভান্ডারী অভিযোগ করেছেন, ইতালি পাঠানোর কথা বলে তার কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। আরেক ভুক্তভোগী এলাম মিয়া তার কাছ থেকে ৪৬ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ করেছেন।
অন্য কয়েকজন ভুক্তভোগীও দাবি করেছেন, ইতালিতে ভালো চাকরি ও উচ্চ আয়ের সুযোগ দেওয়ার কথা বলে তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়। তাদের অভিযোগ, সরাসরি ইতালি নেওয়ার কথা থাকলেও কয়েকজনকে প্রথমে লিবিয়ায় নেওয়া হয় এবং সেখানে আটকে রেখে আরও অর্থ চাওয়া হয়।
ভুক্তভোগীদের কেউ কেউ সেখানে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হওয়ারও অভিযোগ করেছেন।
শোবি বেগমের স্বামী ইতালিতে এবং তার এক ভাই লিবিয়ায় অবস্থান করেন ও বিদেশ থেকে চক্র পরিচালনায় যুক্ত—এমন অভিযোগও কয়েকজন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় ব্যক্তি করেছেন।
এদিকে গ্রেপ্তারের পর আরও ভুক্তভোগী সামনে আসছেন বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। তারা পাচার ও অর্থ লেনদেনের ঘটনায় জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং বিদেশে অবস্থানরত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
জগন্নাথপুর থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নূর হোসেন গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, আইনগত প্রক্রিয়া শেষে দুই আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মানবপাচারসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।