চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় পূর্বপরিকল্পিতভাবে জাহেদুল আলম (৩৩) ওরফে পিচ্চি জাহিদকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এজাহারনামীয় ১২ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। গত ৩০ আগস্ট ২০২৬ রাত আনুমানিক ১০টায় সাতকানিয়া থানাধীন পুরানগড় ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের বাজালিয়া-শীলঘাটা সড়কের ভাঙ্গারগোড়া এলাকায় জাহেদুলকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পুরানগড় ইউনিয়ন পরিষদের সরকারি গাছ কাটার ঘটনা এবং এ সংক্রান্ত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশকে কেন্দ্র করে তার সঙ্গে আসামিদের বিরোধের সৃষ্টি হয়।
নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুকুরে মাইক্রোবাস, উদ্ধারে মিলল ফেনসিডিল
পিচ্চি জাহিদ কর্তৃক পুরানগড় ইউনিয়ন পরিষদের সরকারি গাছ কেটে চুরি করার অভিযোগসংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন মানিক। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাহিদ ক্ষুব্ধ হয়ে নতুনহাট এলাকার একটি মিষ্টির দোকানের সামনে মানিক ও তার বন্ধু-বান্ধবদের হুমকি প্রদান করেন, যা পরবর্তীতে বিরোধে রূপ নেয়। ঘটনার দিন রাত আনুমানিক ৮টায় পুরানগড় নতুন হাট এলাকায় আসামিরা জাহেদুলকে মারধর করে ভিডিও প্রকাশের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরে রাত আনুমানিক ১০টায় জাহেদুল তার সঙ্গে থাকা মোঃ ওয়াহিদ (২৫)-কে নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে বাজালিয়া স্টেশনের উদ্দেশ্যে রওনা হলে ভাঙ্গারগোড়া এলাকায় গাছের গুঁড়ি ও ভ্যানগাড়ি দিয়ে তাদের পথরোধ করা হয়। একদল সশস্ত্র ব্যক্তি দা, কিরিচ, লোহার রড ও লাঠিসোঁটা দিয়ে জাহেদুলের ওপর হামলা চালায়, এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং ওয়াহিদও আহত হন। এ ঘটনায় নিহতের মা মনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে গত ২ সেপ্টেম্বর সাতকানিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন, যাতে ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জনকে আসামি করা হয়।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলমের নির্দেশনায় আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। জেলা গোয়েন্দা শাখার সদস্যরা আসামিদের গতিবিধির ওপর নজরদারি চালিয়ে প্রথমে পাহাড়তলী থানা এলাকা থেকে মোঃ আজাদ ও মোঃ হেলালকে গ্রেপ্তার করেন। পরবর্তীতে একাধিক আসামি ঢাকায় আত্মগোপনে থাকার তথ্যের ভিত্তিতে গোয়েন্দা শাখার একাধিক টিম ঢাকায় অভিযান চালায় এবং ১৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত আনুমানিক ১টায় আরও ১০ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এভাবে মোট ১২ জন এজাহারনামীয় আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে মোঃ আজাদকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। এই জবানবন্দি ও তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে অবশিষ্ট আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।