জোর করে নেওয়া কোনো শিক্ষকের পদত্যাগপত্রের আইনগত বৈধতা নেই বলে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে চাপ প্রয়োগ করে পদত্যাগে বাধ্য করা গাজীপুরের এক প্রধান শিক্ষককে স্বপদে পুনর্বহালের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ এ রায় ও গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দেন। আদালত জানিয়েছেন, কোনো শিক্ষকের কাছ থেকে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া পদত্যাগপত্র আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।
জাকির নায়েককে ভারতের হাতে তুলে দিতে পারে মালয়েশিয়া
রায়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, আদালতের নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না করলে পরিচালনা পর্ষদ বাতিল, সভাপতিকে অপসারণ এবং প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের এমপিও সুবিধা বন্ধসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
মো. আলকাছ উদ্দিন আহমেদ বনাম রাষ্ট্র মামলায় এ রায় দেন হাইকোর্ট। মামলাটি করা হয়েছিল গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার গোলাম নবী মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলকাছ উদ্দিন আহমেদকে জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে।
বিচারপতি মো. ইকবাল কবির ও বিচারপতি এস এম সাইফুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে আগের জারি করা রুল নিষ্পত্তি করে এ সিদ্ধান্ত দেন। পরবর্তীতে আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়।
আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, রিটকারী শিক্ষকের পদত্যাগপত্র স্বেচ্ছায় দেওয়া হয়নি। বরং তার স্বাক্ষর জোরপূর্বক নেওয়া হয়েছিল। এ ধরনের পদত্যাগের কোনো আইনগত ভিত্তি নেই এবং প্রচলিত আইন বা বিধিমালা চাপ প্রয়োগ করে নেওয়া পদত্যাগকে সমর্থন করে না।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট একদল ব্যক্তি প্রধান শিক্ষক মো. আলকাছ উদ্দিন আহমেদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে একটি পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে তিনি কালিয়াকৈর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।
এরপর তিনি জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত আবেদন করে বিষয়টি জানান।
ঘটনার তদন্ত শেষে গঠিত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড তাকে স্বপদে বহালের নির্দেশ দেয়। তবে সেই নির্দেশ কার্যকর না হওয়ায় প্রতিকার চেয়ে ২০২৪ সালে হাইকোর্টে রিট করেন আলকাছ উদ্দিন আহমেদ।
রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট জোর করে নেওয়া ওই পদত্যাগপত্রের কার্যকারিতা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিলেন। পরে চূড়ান্ত শুনানি শেষে আদালত শিক্ষককে পুনর্বহালের নির্দেশ দেন।
আদালতে রিটকারীর পক্ষে আইনজীবী মো. জহুরুল ইসলাম মুকুল ও মানবেন্দ্র রায় এবং বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির পক্ষে আইনজীবী এস এম রেজাউল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।