বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল তাঁর ছোট মেয়ের পোষা ছাগল চুরির ঘটনাকে জীবনের অন্যতম হৃদয়বিদারক ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে জনপ্রিয় টকশো ‘ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন’-এ অতিথি হিসেবে অংশ নিয়ে তিনি এ ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।
বগুড়ায় ধারের টাকা ফেরত চাওয়ায় ফল ব্যবসায়ীকে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার ১
আসিফ নজরুল জানান, হেয়ার রোডের সরকারি বাসভবনে থাকার সময় একাকী পরিবেশে তাঁর সাড়ে নয় বছর বয়সী ছোট মেয়ের মানসিক প্রশান্তির জন্য একটি ছাগল কিনে দেওয়া হয়েছিল। ধীরে ধীরে ছাগলটির সঙ্গে শিশুটির গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে এক রাতে সুরক্ষিত সরকারি বাংলো থেকে ছাগলটি চুরি হয়ে যায়। পোষা প্রাণীটি হারিয়ে তাঁর মেয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। প্রায় দেড় দিন সে কোনো খাবার গ্রহণ করেনি এবং অসুস্থ হয়ে পড়েছিল।
আসিফ নজরুল জানান, মেয়েকে আরও কষ্ট থেকে দূরে রাখতে পরিবার থেকে তাকে বলা হয়েছিল যে, দরজা খোলা থাকায় ছাগলটি পালিয়ে গেছে। দীর্ঘ সময় পর্যন্ত সে জানত না যে ছাগলটি চুরি হয়েছিল।
ছাগলটি চুরির পর সেটিকে কেটে ফেলার ঘটনা নিয়েও কথা বলেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, চুরির পর ছাগলটি কাটার জন্য প্রথমে সাধারণ বঁটি ব্যবহার করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। পরে কারওয়ান বাজার থেকে ধারালো বঁটি এনে সেটি কাটা হয় বলে তিনি জানতে পারেন।
এ ঘটনায় জড়িতদের সমালোচনা করে আসিফ নজরুল বলেন, এমন কাজ যারা করেছে, তারা অত্যন্ত নিষ্ঠুর আচরণ করেছে।
টকশোতে উপস্থাপক খালেদ মুহিউদ্দীন প্রশ্ন করেন, ঘটনাটি কি কোনো রাজনৈতিক প্রতিশোধের অংশ ছিল কি না।
জবাবে আসিফ নজরুল বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক প্রতিশোধের ঘটনা নয়। তাঁর ধারণা, চোরেরা শুধুই মজা বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে ঘটনাটি ঘটিয়েছে। তিনি আরও বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতাদের সঙ্গে তাঁর কোনো বিরোধ ছিল না এবং তাঁদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক স্বাভাবিক ছিল।
ছাগল চুরির ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘদিন নানা আলোচনা চললেও, আসিফ নজরুল জানান, তাঁর মেয়ের মানসিক কষ্টের কারণে ব্যক্তিগতভাবে ঘটনাটি তাঁর কাছে অত্যন্ত বেদনাদায়ক হয়ে আছে।