বগুড়ায় ধারের টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে ওয়াহেদ হোসেন নিঝুম (৩৭) নামে এক ফল ব্যবসায়ীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর দুই বন্ধুর বিরুদ্ধে। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় নাজিম উদ্দিন (৩৭) নামে এক বন্ধুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর অভিযুক্ত মো. স্বপন বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
তিন লাখ টাকা পাওনা নিয়ে বিরোধে বন্ধুকে হত্যার পর মাটিতে পুঁতে রাখার অভিযোগ
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ধারের টাকা ফেরত দেওয়ার চাপকে কেন্দ্র করেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
নিহত নিঝুম বগুড়া শহরের স্টেশন সড়কে তাঁর বাবার সঙ্গে ফলের আড়ত পরিচালনা করতেন। পুলিশ ও স্বজনদের তথ্য অনুযায়ী, কিছুদিন আগে তিনি মায়ের নামে একটি এনজিও থেকে সাত লাখ টাকা ঋণ নেন। এর মধ্যে বন্ধু স্বপনকে দুই লাখ টাকা এবং নাজিমকে এক লাখ টাকা ধার দেন। বাকি তিন লাখ টাকা বাবার ব্যবসায় বিনিয়োগ করেন।
পরে নিঝুম বন্ধুদের কাছে ধার দেওয়া টাকা ফেরত চাইলে তাঁদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। পুলিশ দাবি করেছে, টাকা ফেরত না দেওয়ার উদ্দেশ্যে স্বপন ও নাজিম মিলে তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
তদন্তে পুলিশ জানায়, হত্যার আগে নাজিম তাঁর মোবাইল ফোন দিয়ে অজ্ঞান করার ওষুধের নাম খুঁজেছিলেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
পুলিশের অভিযোগ, গত ৭ আগস্ট নাজিম কৌশলে নিঝুমকে বগুড়া শহরের মালগ্রাম এলাকায় তাঁর কর্মস্থল ‘আশা’ এনজিও কার্যালয়ে ডেকে নেন। সেখানে কোমল পানীয়ের সঙ্গে চেতনানাশক ও বিষাক্ত দ্রব্য মিশিয়ে তাঁকে পান করানো হয়।
পরে নিঝুমের মৃত্যু হলে মরদেহ বস্তাবন্দি করে একটি ধানক্ষেতে ফেলে রাখা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ঘটনার তদন্তে নেমে বগুড়া সদর থানা পুলিশ কাহালু উপজেলার মদনাই গ্রাম থেকে নাজিম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাঁকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্তের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার অপর অভিযুক্ত স্বপনকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
বগুড়া সদর থানা পুলিশ ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।