ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দেখে ৩১০ টাকায় একটি বেবি বাইক অর্ডার করেছিলেন খুলনার লবণচরা এলাকার মো. আজিজুল হক। পরে অর্ডার নিশ্চিত করা, ওটিপি, পণ্য প্রসেসিং ও শিপমেন্টসহ বিভিন্ন অজুহাতে কয়েক দফায় তাঁর কাছ থেকে মোট ৪৯ হাজার ১৪০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি অনলাইন প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় করা মামলায় চক্রটির দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) খুলনা জেলা।
হাটহাজারীতে ফায়ারিং অনুশীলনে দুর্ঘটনা, প্রাণ গেল নোয়াখালীর আবু বক্করের
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন জুয়েল সরদার (২৫) ও মো. সাইফুল ইসলাম (৩০)। পিবিআই জানিয়েছে, বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) তাঁরা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, মো. আজিজুল হক ফেসবুকে ‘Online Sale Bazar’ নামের একটি পেজে বেবি বাইকের বিজ্ঞাপন দেখে ৩১০ টাকা দিয়ে অর্ডার করেন। এরপর অর্ডার নিশ্চিত করা থেকে শুরু করে বিভিন্ন অজুহাতে কয়েক দফায় তাঁর কাছ থেকে মোট ৪৯ হাজার ১৪০ টাকা নেওয়া হয়। পরে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় আজিজুল হক বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে গত ৬ সেপ্টেম্বর লবণচরা থানায় মামলা করেন। মামলাটি দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় নথিভুক্ত করা হয়। পিবিআইয়ের তফসিলভুক্ত হওয়ায় পরদিন ৭ সেপ্টেম্বর পিবিআই খুলনা জেলা মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে। বর্তমানে পিবিআইয়ের এসআই মো. সোহানুর রহমান মামলাটি তদন্ত করছেন।
পিবিআই জানায়, তদন্তকারী কর্মকর্তা তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রতারণায় জড়িত সন্দেহভাজনদের পরিচয় ও অবস্থান শনাক্ত করেন। এরপর ৮ সেপ্টেম্বর রাতে খুলনার খানজাহান আলী থানার শিরোমনি দক্ষিণপাড়া থেকে জুয়েল সরদারকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই এলাকার শিরোমনি চালপট্টি রোডের ‘সাইফুল স্টোর’ থেকে গ্রেপ্তার করা হয় মো. সাইফুল ইসলামকে। এ সময় সাইফুলের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও সিমকার্ড উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে পিবিআই।
পিবিআইয়ের তদন্তে জানা গেছে, গ্রেপ্তার দুজন একটি অনলাইন প্রতারণা চক্রের সক্রিয় সদস্য। তাঁরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে ক্রেতাদের প্রলুব্ধ করে অর্থ হাতিয়ে নিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, আজিজুল হক বেবি বাইকটি অর্ডার করার পর প্রতারকেরা ডেলিভারিম্যান পরিচয়ে ওটিপি পাঠানো, পণ্য প্রসেসিং ও শিপমেন্টসহ বিভিন্ন কৌশলে তাঁর কাছ থেকে কয়েক দফায় টাকা নেয়। এভাবে তাঁর কাছ থেকে মোট ৪৯ হাজার ১৪০ টাকা নেওয়া হয়। একই কৌশলে আরও অনেকের কাছ থেকেও বিভিন্ন অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।
এ ঘটনায় আর কেউ জড়িত আছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।