আশুলিয়ার জামগড়ায় একই পরিবারের তিনজনকে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ক্লুলেস এই ‘ট্রিপল মার্ডার’-এর রহস্য উন্মোচনের পাশাপাশি ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে সংস্থাটি।
প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় পুলিশের অভিযান, গ্রেপ্তার তিনজন
পিবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, পরকীয়াসংক্রান্ত বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটে থাকতে পারে। গ্রেপ্তার ব্যক্তির দেওয়া তথ্য ও প্রাথমিক অনুসন্ধানে এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা জেলা পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক (এসআই) আনিসুর রহমান বাপ্পী একজনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এসআই আনিসুর রহমান বাপ্পী বলেন, ‘আমরা ঘটনার পরপরই ছায়া তদন্ত শুরু করি। এই ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তার বিস্তারিত তথ্য দেওয়া যাচ্ছে না। তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য ও হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো হবে। তবে হত্যাকাণ্ডের আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।’
নিহতরা হলেন দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ থানার বড়পুকুরিয়া গ্রামের আতিয়ার রহমানের মেয়ে নাজমা খাতুন (৩৯), তার স্বামী আলমগীর কবির (৪৫) ও এক শিশু। নাজমা স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন এবং আলমগীর পান-সিগারেট বিক্রি করতেন।
গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে জামগড়ার হযরত আলীর বাড়ির দ্বিতীয় তলার তালাবদ্ধ একটি ঘর থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের তালা ভেঙে তিনজনের গলিত মরদেহ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় নিহতের বোন শাপলা বেগম বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এরপর পিবিআই ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং একপর্যায়ে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার আসামির বরাতে জানা যায়, ১ সেপ্টেম্বর বিকেলে কারখানা ছুটির পর নাজমা খাতুন ও তার স্বামী আলমগীর কবির বাসায় প্রবেশ করেন। পরে আলমগীরের ডেকে আনা অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘরে ঢোকেন। একপর্যায়ে তাদের হত্যা করে ঘরের বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে পালিয়ে যান তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, আশুলিয়ার চাঞ্চল্যকর ট্রিপল মার্ডারের ঘটনার প্রাথমিক অনুসন্ধানে পরকীয়াসংক্রান্ত বিরোধের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। নিহত আলমগীর ওই অভিযুক্ত ব্যক্তিকে মারধর ও সতর্ক করার জন্য ডেকে এনেছিলেন বলে জানা গেছে। পরে কথাকাটাকাটি ও হাতাহাতির একপর্যায়ে তিনজনকে হত্যা করা হয়।