নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় নিজেদের ডিজিএফআই সদস্য পরিচয় দিয়ে এক সিএনজি চালককে তুলে নিয়ে মারধর ও মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ। ৩ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে সাইনবোর্ড সিএনজি স্ট্যান্ড থেকে চালক আলাউদ্দিনকে (৩৮) তুলে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এর প্রায় চার ঘণ্টা পর ৪ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে একটি পাজেরো গাড়ি আটক করে তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ।
দিনাজপুরে সারের কোনো ঘাটতি নেই আবার গোডাউনেও সার নেই- ডা. জাহিদ
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার শুরু ৩ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে। ওই সময় আলাউদ্দিন সাইনবোর্ড সিএনজি স্ট্যান্ডে অবস্থান করছিলেন। তিনি কালু মিয়া ও আয়েশা বেগমের ছেলে এবং ঢাকার কদমতলী থানা সংলগ্ন মদিনাবাগ ২ নম্বর রোডের বাসিন্দা।
অভিযোগ রয়েছে, আলাউদ্দিন সিএনজি স্ট্যান্ডে অবস্থান করার সময় একটি পুরাতন পাজেরো গাড়িতে করে কয়েকজন ব্যক্তি সেখানে আসেন। তারা নিজেদের ডিজিএফআই সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। এ সময় তাদের কাছে হ্যান্ডকাফ, ওয়াকিটকি ও লাঠি ছিল এবং সেগুলো প্রদর্শন করে আলাউদ্দিনকে সিএনজি থেকে নেমে আসতে বলা হয়।
একপর্যায়ে অভিযুক্তরা লাঠি দিয়ে আলাউদ্দিনের সিএনজির সামনের গ্লাসে আঘাত করে ভেঙে ফেলেন বলে অভিযোগ। এরপর তাকে জোরপূর্বক পাজেরো গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আলাউদ্দিনকে তুলে নেওয়ার পর পাজেরো গাড়িতে করে বিভিন্ন স্থানে ঘোরানো হয়। এ সময় তাকে মারধর করা হয় এবং মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে দুই লাখ টাকা দাবি করা হয়।
ঘটনার খবর পাওয়ার পর ফতুল্লা মডেল থানার টহল পুলিশ অভিযানে নামে। রাত পেরিয়ে ৪ সেপ্টেম্বরের প্রথম প্রহরে পুলিশ ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডসহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় অভিযান চালাতে থাকে।
একপর্যায়ে ৪ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১২টা ৪০ মিনিটে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের ভূইঘর এলাকায় জেলা পাসপোর্ট অফিসের পাশে মৌচাকগামী ফিডার রোডের মাথায় সন্দেহভাজন পাজেরো গাড়িটির সন্ধান পায় পুলিশ। পরে গাড়িটি আটক করা হয়।
পুলিশ গাড়িটি আটকের পর এর ভেতর থেকে আহত অবস্থায় আলাউদ্দিনকে উদ্ধার করে। একই সময় গাড়িতে থাকা মাহাবুব আলম রায়হান (৩৬), সাদ্দাম কাজী (৩৫) ও নাসির (৩৬) নামে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। তবে তাদের সঙ্গে থাকা এক অজ্ঞাতনামা সহযোগী কৌশলে পালিয়ে যান বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেফতার মাহাবুব আলম রায়হানের বাবার নাম নুর ইসলাম এবং মায়ের নাম রেহেনা পারভীন সামসুন নাহার। তার স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে বগুড়া ও জয়পুরহাট জেলার একাধিক এলাকার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সাহেবপাড়া এলাকার বিসমিল্লাহ টাওয়ারে বসবাস করেন।
গ্রেফতার সাদ্দাম কাজীর বাবার নাম মৃত দুলাল কাজী এবং মায়ের নাম রওশন কাজী। তিনি নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড় এলাকার রহিম মার্কেটের কাজী ম্যানশনের বাসিন্দা। অপর গ্রেফতার নাসিরের বাবার নাম আব্দুস সালাম এবং মায়ের নাম নার্গিস বেগম। তার স্থায়ী ঠিকানা মুন্সিগঞ্জের পঞ্চসার এলাকার বুড়ীপাড়ায় এবং বর্তমানে তিনি ফতুল্লার ভূইগড় পূর্বপাড়া এলাকায় বসবাস করেন।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতার ব্যক্তিদের হেফাজত ও পাজেরো গাড়ি তল্লাশি করে দুটি ওয়াকিটকি, একটি হ্যান্ডকাফ, ডিজিএফআই ইন্সপেক্টর পরিচয়ের একটি ভিজিটিং কার্ড, একটি ভিভো মোবাইল ফোন, একটি পাজেরো জিপ গাড়ি এবং একটি লাঠি উদ্ধার করে জব্দ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ৪ সেপ্টেম্বর ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা নম্বর ১৪ রুজু করা হয়। মামলাটি পেনাল কোড ১৮৬০-এর ১৭০, ১৭১, ৩৬৫, ৩৮৫ ও ৪২৭ ধারায় করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত পলাতক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, সে বিষয়েও তদন্ত চলছে।