বরগুনার পায়রা নদীতে পড়ে নিখোঁজের প্রায় ৩৪ ঘণ্টা পর দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাবেয়া আক্তার জুঁইয়ের (১৫) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেল পৌনে ৬টার দিকে তালতলী উপজেলার সাগর মোহনা তেতুলবাড়িয়ার চর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়, বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরগুনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহ্ আজিজ। এর আগে রোববার (১৬ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে বরগুনা সদর উপজেলার এম বালিয়াতলী ইউনিয়নের লতাকাটা খেয়াঘাট এলাকায় পায়রা নদীর পাড়ে গিয়ে নিখোঁজ হয় জুঁই।
জানা যায়, জুঁই তার মা তাসলিমা বেগম ও বান্ধবী মরিয়াম ইসলাম রিয়ার সঙ্গে ঢাকার মিরপুর থেকে বরগুনায় বেড়াতে এসেছিল। বরগুনায় পৌঁছে তারা পায়রা নদীর পাড়ে গেলে একপর্যায়ে দুই বান্ধবী পানিতে পড়ে যায়, রিয়া সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও সাঁতার না জানা জুঁই স্রোতের টানে গভীর পানিতে তলিয়ে যায়। খবর পেয়ে রোববার থেকেই ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ নদীতে উদ্ধার অভিযান শুরু করে এবং প্রায় ৩৪ ঘণ্টা পর সোমবার বিকেলে তেতুলবাড়িয়ার চরে জুঁইয়ের মরদেহ ভেসে উঠলে তা উদ্ধার করা হয়।
নিহত জুঁই রাজধানীর মিরপুরের বাসিন্দা জনি চৌধুরীর মেয়ে, তাদের গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার নরহা গ্রামে। জুঁইয়ের মা তাসলিমা বেগম জানান, ঢাকার মিরপুরে তাদের বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া থাকা জীবন মাহমুদ মাহফুজের গ্রামের বাড়ি বরগুনায় হওয়ায় তার সূত্র ধরেই মেয়ে ও মেয়ের বান্ধবীকে নিয়ে তারা বরগুনায় বেড়াতে এসেছিলেন। জীবন মাহমুদ মাহফুজ জানান, নদীর পাড়ে যাওয়ার আগে সাঁতার না জানা জুঁই ও তার বান্ধবীকে সেখানে যেতে নিষেধ করা হয়েছিল, তবুও তারা সেখানে যাওয়ার পর এই দুর্ঘটনা ঘটে।