ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় জাপান প্রবাসী বরের জন্য সাজানো বিশেষ খাবারের থালা বা ‘খদর’-এ আস্ত খাসির মাংস না থাকায় বিয়ে না করেই বরের চলে যাওয়ার একটি ঘটনা – যা ‘খাসিকাণ্ড’ নামে পরিচিতি পেয়েছে -নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের তোলাতালা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে কনেপক্ষ ও জাপানপ্রবাসী বরপক্ষের মধ্যে সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী ও গুরুতর অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ সামনে এসেছে।
কনের পরিবার ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দাবি, বর জুনায়েদ মিয়া বিয়েবাড়িতে পৌঁছানোর পর থেকেই বিভিন্ন আয়োজন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং খাওয়াদাওয়ার সময় তার জন্য সাজানো থালায় আস্ত খাসির মাংস না দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। কনেপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা ব্রয়লার মুরগি ও গরুর মাংসসহ ব্যাপক আয়োজন করলেও বরপক্ষ আগে থেকে খাসির মাংসের কোনো চাহিদার কথা জানায়নি, এবং স্থানীয় মুরুব্বিরা অনুরোধ করার পরও বর কোনো কথা না শুনে একাই বিয়ের আসর ত্যাগ করে চলে যান। কনের বাবা গণমাধ্যমকে বলেন, আগে জানানো হলে তিনি অবশ্যই খাসির ব্যবস্থা করতেন এবং সামান্য খাবারের জন্য মেয়ের জীবন নিয়ে এভাবে ছিনিমিনি খেলা হবে তা তিনি ভাবতেও পারেননি। স্থানীয় ইউপি সদস্য আশিক মিয়াও বরের এই আচরণকে অস্বাভাবিক ও খামখেয়ালিপনা বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
তবে ঘটনাটি সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বর জুনায়েদ মিয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন তথ্য তুলে ধরে কনেপক্ষের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ আনেন। তার দাবি, খাসির মাংসের বিষয়টি নিছক একটি অজুহাত মাত্র, প্রকৃত বিরোধ তৈরি হয়েছিল দেনমোহর নিয়ে-খাওয়াদাওয়া শেষে কনেপক্ষ পূর্বনির্ধারিত কাবিননামার তুলনায় আচমকা ১০ গুণ বেশি টাকা দাবি করে বসে। এই অতিরিক্ত দাবি মানতে অস্বীকৃতি জানালে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে কনেপক্ষই তাকে ও তার পরিবারকে আসর থেকে বের করে দেয় এবং উপহারসামগ্রী ও লাগেজও ফেরত পাঠিয়ে দেয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। বর আরও দাবি করেন, কনেপক্ষ তাকে যোগাযোগের সুযোগ না দিয়ে হুমকি দিচ্ছে এবং টাকা দিয়ে ‘ভুয়া সাংবাদিক’ ভাড়া করে খাসির মাংস না পাওয়ার মিথ্যা গল্প রটিয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।