দেশে চলমান বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট দ্রুত সমাধান সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, আগামী ছয় মাস কিংবা এক বছরের মধ্যে সংকট পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে না। পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধানে সর্বনিম্ন দুই বছর সময় লাগতে পারে।
রোববার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সংকট দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার ফল। আগের ১৭ বছরে পর্যাপ্ত গ্যাস অনুসন্ধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। একই সময়ে জ্বালানির পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত না করেই বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। ফলে বর্তমানে উৎপাদন সক্ষমতা থাকার পরও জ্বালানির অভাবে অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না।
তিনি জানান, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৩০ হাজার মেগাওয়াট। তবে সংকটের অন্যতম কারণ হচ্ছে জ্বালানির সরবরাহ ও বিদ্যুৎ সঞ্চালনব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা।
অর্থমন্ত্রী বলেন, অর্থ থাকলেই রাতারাতি বিদেশ থেকে গ্যাস আমদানি বাড়ানো সম্ভব নয়। গ্যাস আমদানি, সংরক্ষণ এবং জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করতে কমপক্ষে ১৮ থেকে ২৪ মাস সময় লাগবে।
সংকট মোকাবিলায় সরকার একটি সমন্বিত জ্বালানি পরিকল্পনা বা ‘পাওয়ার মিক্স’ চূড়ান্ত করার কাজ করছে বলেও জানান তিনি। এতে সৌরবিদ্যুৎ ও অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির পাশাপাশি গ্যাস ও এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং দেশের নিজস্ব কয়লা ব্যবহারের সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হচ্ছে।
এদিকে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগামী ২৭ আগস্ট শুরু হতে যাওয়া সংসদ অধিবেশনে ১০ বছর মেয়াদি একটি মহাপরিকল্পনা উপস্থাপনের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
জ্বালানি খাতসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটি ও অগ্নিকাণ্ডের কারণে সাময়িকভাবে গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। দৈনিক প্রায় ৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ নেমে এসেছে প্রায় ২ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ঘনফুটে। আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে ২০২৮ সাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।