সিলেটের গোয়াইনঘাটে মেয়ের ওপর নির্যাতনের বিচার চাইতে থানায় মামলা করেছিলেন এক বাবা; পুলিশ আসামিকে ধরতে গেলে তাঁদের উপস্থিতিতেই বাদীর গলায় দা দিয়ে কোপ মেরে হত্যা করেন অভিযুক্তের বাবা।
মেয়ের ওপর হওয়া অন্যায়ের বিচার চাইতে আইনের দ্বারস্থ হয়েছিলেন এক অসহায় বাবা। কিন্তু থানা-পুলিশকে সাথে নিয়ে আসামিকে ধরিয়ে দিতে গিয়ে নিজের জীবনটাই দিতে হলো তাঁকে। সিলেটের গোয়াইনঘাটে কিশোরী মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার করতে গেলে পুলিশের উপস্থিতিতেই মামলার বাদী ও কিশোরীর বাবা কলিম উল্লাহকে (৫৩) কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে অভিযুক্ত যুবকের বাবার বিরুদ্ধে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার পূর্ব আলীরগাঁও ইউনিয়নের লাফনাউট দিঘীরপাড় গ্রামে এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে। নিহত কলিম উল্লাহ ওই গ্রামের মৃত তুতি মিয়ার ছেলে। অভিযুক্ত যুবক জুবেল আহমদ (২১) নিহতের আপন ভাতিজা এবং প্রধান অভিযুক্ত হামলাকারী ছয়ফুল্লাহ নিহতের আপন সহোদর ভাই।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, নিহত কলিম উল্লাহর কিশোরী মেয়ের সাথে তাঁর চাচাতো ভাই জুবেল আহমদের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি পারিবারিকভাবে জানাজানি হওয়ার পর কিশোরীর পরিবার তাঁদের বিয়ের প্রস্তাব দিলেও জুবেলের পরিবার তা প্রত্যাখ্যান করে। এ নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সুরাহা হয়নি। অবশেষে শনিবার দুপুরে ওই কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ এনে তাঁর মা গোয়াইনঘাট থানায় জুবেল আহমদের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ জুবেলকে গ্রেপ্তার করতে অভিযানে নামে। দিঘীরপাড় গ্রামে পৌঁছে পুলিশ জানতে পারে জুবেল স্থানীয় একটি হাওরে অবস্থান করছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশ জুবেলকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করার জন্য কিশোরীর বাবা কলিম উল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে হাওরের দিকে এগোচ্ছিল। এ সময় ক্ষিপ্ত হয়ে জুবেলের বাবা ছয়ফুল্লাহ পুলিশকে পাশ কাটিয়ে প্রায় আধা কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে দা নিয়ে কলিম উল্লাহর ওপর অতর্কিত হামলা চালান এবং তাঁর গলায় সরাসরি কোপ দেন।
রক্তাক্ত ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয় লোকজন কলিম উল্লাহকে উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে গোয়াইনঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরদেহের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে তা থানায় নিয়ে যায়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক জানান, নিহত কলিম উল্লাহ ও অভিযুক্ত ছয়ফুল্লাহ আপন দুই ভাই। কলিম উল্লাহকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যার ঘটনার পর থেকে পলাতক ছয়ফুল্লাহকে গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ছাড়া ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট সন্দেহে তাৎক্ষণিকভাবে আমির উদ্দিন (২৭) নামের একজনকে আটক করা হয়েছে।