শনিবার মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের এমপি ভিপি আইনুল হক ও কুষ্টিয়ার এমপি আমির হামজার গাড়িবহরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে; কুষ্টিয়ায় সংঘর্ষে আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন।
মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দেশের পৃথক দুটি জেলায় দুই সংসদ সদস্যের (এমপি) গাড়িবহরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৫ আগস্ট ২০২৬) বিকেলে সিরাজগঞ্জ ও কুষ্টিয়ায় এসব ঘটনা ঘটে। এতে সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ভিপি আইনুল হক এবং কুষ্টিয়ার সংসদ সদস্য আমির হামজার গাড়ি আক্রান্ত হয়। কুষ্টিয়ায় সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
সিরাজগঞ্জে ভিপি আইনুল হকের গাড়িবহরে হামলা
শনিবার বিকেলে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া এলাকায় সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ) আসনের সংসদ সদস্য ভিপি আইনুল হকের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। দুর্বৃত্তরা তাঁর গাড়িবহরে হামলা চালিয়ে গাড়ির গ্লাস ভাঙচুর করে।
ঘটনার পর সংসদ সদস্য ভিপি আইনুল হক ও তাঁর এক সহযোগী ফেসবুক লাইভে এসে অভিযোগ করেন, জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের ইন্ধনে এই হামলা চালানো হয়েছে। তবে এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে জেলা জামায়াত। দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, বিএনপির অভ্যন্তরীণ গ্রুপিংয়ের কারণে নিজেদের গাড়ি নিজেরাই ভাঙচুর করে জামায়াতের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা চলছে।
সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম খান জানান, ধানগড়া এলাকার পরিস্থিতি বর্তমানে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
কুষ্টিয়ায় এমপি আমির হামজার গাড়িতে ভাঙচুর ও সংঘর্ষ
একই দিন বিকেলে কুষ্টিয়া শহরে গণঅধিকার পরিষদ ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। এর জেরে সংসদ সদস্য আমির হামজার গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়। সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন।
প্রথম দফার সংঘর্ষের পর কুষ্টিয়া শহরের হাইস্কুল মার্কেটে অবস্থিত গণঅধিকার পরিষদের জেলা কার্যালয় এবং দলটির জেলা সভাপতির ব্যক্তিগত কার্যালয়েও পাল্টা হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। এতে পুরো শহরে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ জানিয়েছেন, শহরের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাব মোতায়েন করা হয়েছে।