ময়মনসিংহে প্রকাশ্য দিবালোকে কুপিয়ে মোহাম্মদ রাব্বীকে হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী আবদুল খালেককে মাত্র ৮ ঘণ্টায় গ্রেফতার করেছে র্যাব; স্বীকার করেছেন বাবার ওপর হামলার প্রতিশোধ নেওয়ার কথা।
বাবার হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করার পুরোনো প্রতিশোধ এবং এলাকায় চাঁদাবাজির ক্ষোভ থেকেই ময়মনসিংহে প্রকাশ্য দিবালোকে খুন হয়েছেন মোহাম্মদ রাব্বী। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের মাত্র ৮ ঘণ্টার মধ্যে মূল পরিকল্পনাকারী আবদুল খালেককে নগরীর রঘুরামপুর এলাকা থেকে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় গ্রেফতার করেছে র্যাব-১৪।
গ্রেফতারের পর এক সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অকপটে নিজের ক্ষোভের কথা তুলে ধরেন আসামি খালেক। তিনি বলেন, “আমার বাপেরে ওরা ১৫ জনে কোপাইছে, আর আমরা দুই ভাই ওরে কোপাইছি”।
র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও খালেকের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, ২০১৮ সালে রাব্বী ও তার সহযোগীরা খালেকের বাবা ফজলুল হককে নৃশংসভাবে মারধর করে তাঁর একটি হাত দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিল। সেই থেকেই খালেক ও তাঁর পরিবারের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিশোধের আগুন জ্বলছিল। এছাড়া রাব্বী এলাকায় ভবন নির্মাণসহ বিভিন্ন ব্যবসায় মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করত এবং চাঁদা দিতে না চাইলে শারীরিক নির্যাতন চালাত বলেও খালেকের অভিযোগ।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে আরও জানা গেছে, নগরীর মিস্ত্রি পাড়ায় একটি বাড়ি নির্মাণে রড, সিমেন্ট ও বালু সরবরাহের নিয়ন্ত্রণ নিয়েও রাব্বীর সঙ্গে খালেক ও তাঁর ভাই সাব্বিরদের বিরোধ চলছিল। বণ্টন ব্যবস্থা নিয়ে চরম অসন্তোষ এই সংঘাতকে আরও উসকে দেয়।
গত ১৩ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) দুপুর ১২টার দিকে ময়মনসিংহ নগরীর মাসকান্দা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সামনে রাব্বীর ওপর অতর্কিত এই সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। হামলাকারীদের হাত থেকে বাঁচতে রাব্বী পাশের একটি কম্পিউটারের দোকানে দৌড়ে আশ্রয় নিলেও শেষ রক্ষা হয়নি। হামলাকারীরা দোকানের ভেতর ঢুকেই তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে। এ সময় ভাইকে রক্ষা করতে গিয়ে রাব্বীর ভাই রিয়াদও গুরুতরভাবে জখম হন।
এ নৃশংস ঘটনার পর নিহত রাব্বীর বাবা মোবারক হোসেন বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এ মামলায় গ্রেফতার খালেককে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি ঘটনার সাথে জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ ও র্যাবের চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।