বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি পদের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করেছে দলটি। সংসদীয় শক্তিতে বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠ অবস্থানে থাকায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে বঙ্গভবনে তাঁর আগমন এখন কেবল সময়ের ব্যাপার।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি জানান, বিএনপি চেয়ারম্যান ও সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনার পর এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা এবং সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রক্ষায় ইতোমধ্যেই দলীয় পদ ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দীর্ঘ দেড় দশক ধরে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসা বিএনপির মহাসচিব পদ এবং একই সাথে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যপদ থেকে তিনি পদত্যাগ করেছেন।
সংসদের বর্তমান আসন বিন্যাস অনুযায়ী ৩৪৯টি সাধারণ ও সংরক্ষিত আসনের মধ্যে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। ফলে ভোটাভুটিতে কোনো ধরনের অনিশ্চয়তা ছাড়াই মির্জা ফখরুলের জয়লাভ নিশ্চিত বলেই মনে করা হচ্ছে।
তবে এই নির্বাচনে ফাঁকা মাঠে গোল দেওয়ার সুযোগ থাকছে না। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের পক্ষ থেকে সাবেক মন্ত্রী ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামানো হয়েছে। ফলে সংবিধানে উল্লেখিত পরোক্ষ নির্বাচনের বিধান অনুযায়ী দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর লড়াই দেখতে যাচ্ছে দেশবাসী।
দীর্ঘদিনের বৈরী রাজনীতি, গণআন্দোলন এবং দলের সংকটকালে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতির পদে মনোনয়ন দেওয়াকে তাঁর ত্যাগ ও রাজনৈতিক জীবনের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা।