সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে পারিবারিক কলহের জেরে নিজের দুই শিশুসন্তানকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে বাবা কামরুল মিয়ার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে সুনামগঞ্জের পৃথক দুটি স্থান থেকে দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলো দিরাই উপজেলার শ্যামারচর মধুপুর গ্রামের কামরুল মিয়ার ছেলে মুহাদ্দিস মিয়া (৭) ও মেয়ে তুলনা আক্তার (৪)।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার বেড়ানোর কথা বলে দুই সন্তানকে নিয়ে সিলেটে যান কামরুল। সেখানে দুই দিন অবস্থানের পর বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন তিনি। ফেরার পথে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের জাওয়াবাজার পেরিয়ে ডাবর এলাকায় ঘুমে অচেতন সাড়ে তিন বছর বয়সী মেয়ে তুলনাকে পানিতে ফেলে দেন তিনি। এরপর দিরাই-মদনপুর সড়ক সংলগ্ন এলাকার হাওরের পানিতে ছয় বছর বয়সী ছেলে মুহাদ্দিসকেও ফেলে দেন কামরুল।
সোমবার রাতে বাড়িতে ফিরে সন্তানদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে ফেসবুকে লাইভ করে সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা করেন কামরুল, সন্তান নিখোঁজের নাটক সাজিয়ে। তবে তার কথাবার্তায় অসংগতি দেখে সন্দেহ হয় স্থানীয়দের। এরপর তারা তাকে আটক করে দিরাই থানা পুলিশের হাতে সোপর্দ করেন।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে দুই সন্তানকে হত্যার কথা স্বীকার করেন কামরুল। মঙ্গলবার পুলিশ শান্তিগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও এলাকা থেকে শিশু তুলনা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে, আর বুধবার সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার লক্ষ্মণশ্রী ইউনিয়নের হাওর সংলগ্ন সড়কের পাশ থেকে উদ্ধার করা হয় মুহাদ্দিসের মরদেহ।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কামরুল দাবি করেন, পারিবারিক অশান্তি থেকেই তিনি এই ঘটনা ঘটিয়েছেন। তবে পুলিশ জানিয়েছে, এই বক্তব্য তদন্তের অংশ হিসেবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
দিরাই থানার ওসি আমিনুল ইসলাম বলেন, পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে কামরুল তার দুই সন্তানকে পানিতে ফেলে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে ঘাতক কামরুলকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।