ঢাকার বিভিন্ন বাজারের শাকসবজির নমুনায় সিসা, ক্যাডমিয়াম ও ক্ষতিকর জীবাণুর উপস্থিতি পাওয়ার তথ্য উঠে এসেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের একটি গবেষণায়।
গবেষণায় কিছু নমুনায় সিসার মাত্রা নির্ধারিত সীমার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি এবং ই-কোলাই, ফিকাল কলিফর্ম ও সালমোনেলার উপস্থিতি পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়েছে।
ঢাকার বিভিন্ন বাজার থেকে সংগ্রহ করা শাকসবজির নমুনায় সিসা, ক্যাডমিয়াম ও ক্ষতিকর জীবাণুর উপস্থিতি পাওয়ার তথ্য উঠে এসেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের একটি গবেষণায়।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, শাকসবজিতে সিসার গ্রহণযোগ্য সর্বোচ্চ মাত্রা শূন্য দশমিক ৩ পিপিএম ধরা হলেও ঢাকার বিভিন্ন বাজার থেকে নেওয়া নমুনায় সিসার মাত্রা ১ দশমিক ১৬ থেকে ২ দশমিক ৩৭ পিপিএম পর্যন্ত পাওয়া গেছে। অর্থাৎ কিছু নমুনায় নির্ধারিত সীমার তুলনায় প্রায় আট গুণ পর্যন্ত বেশি সিসা পাওয়া গেছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
শুধু ভারী ধাতুই নয়, নমুনাগুলোতে ই-কোলাই, ফিকাল কলিফর্ম ও সালমোনেলার মতো ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতিও পাওয়া গেছে বলে গবেষণায় জানানো হয়েছে।
ফিকাল কলিফর্ম সাধারণত মানুষ বা প্রাণীর মলে পাওয়া যায়। গবেষণায় এসব জীবাণুর উপস্থিতির সম্ভাব্য উৎস হিসেবে পয়ঃনিষ্কাশন ও দূষিত পানির সংস্পর্শের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া শাকসবজির নমুনায় শূন্য দশমিক ৩৩ পিপিএম মাত্রায় ক্যাডমিয়াম পাওয়া গেছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। ক্যাডমিয়াম মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর ভারী ধাতু হিসেবে পরিচিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় ভারী ধাতুতে দূষিত খাবার গ্রহণ করলে মানুষের স্বাস্থ্যে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। দীর্ঘমেয়াদি সিসা exposure কিডনি, লিভার ও স্নায়ুতন্ত্রের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে এবং শিশুদের ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের বিকাশ ও জ্ঞানীয় সক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাবের ঝুঁকি রয়েছে।
গবেষণায় উঠে আসা এসব তথ্য ঢাকার বাজারে বিক্রি হওয়া শাকসবজির নিরাপদ উৎপাদন, পরিবহন, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
তবে গবেষণায় কতটি নমুনা, কোন কোন শাকসবজি এবং ঢাকার কোন কোন বাজার থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল, সে বিষয়ে আপনার দেওয়া তথ্যে বিস্তারিত উল্লেখ নেই। ফলে এসব তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকার সব বাজারের সব শাকসবজি দূষিত বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।