দিল্লির যন্তর মন্তরে চলমান ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ অব্যাহত থাকায় রাজধানীর কনট প্লেস ও আশপাশের সব দোকান, রেস্তোরাঁ, অফিসসহ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার মধ্যে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে নিউ দিল্লি ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন (এনডিটিএ)।
এনডিটিএর জারি করা এক পরামর্শে বলা হয়, নিউ দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিলের (এনডিএমসি) চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানের পরামর্শ অনুযায়ী কনট প্লেস এলাকার বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি, সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার ঝুঁকি এড়াতে সব প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এনডিটিএর সভাপতি অতুল ভার্গব বলেন, গত কয়েক দিনের বিক্ষোভের কারণে কনট প্লেস এলাকায় ব্যবসা-বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। তাঁর দাবি, গত তিন দিনে ক্যাফে, হোটেল ও দোকানগুলোতে বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। বর্তমানে স্বাভাবিকের মাত্র ২০ শতাংশ ক্রেতা আসছেন।
তিনি বলেন, মেট্রো স্টেশন বন্ধ থাকায় এবং অটোরিকশার ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় দোকান, ক্যাফে ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। অনেককে ইন্ডিয়া গেট বা আইটিও থেকে হেঁটে কনট প্লেসে যেতে হচ্ছে, কারণ যন্তর মন্তরের আশপাশের ১৬টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রয়েছে।
ভার্গব জানান, কয়েক দিন আগে বিক্ষোভ তীব্র হলে আন্দোলনকারী ও পুলিশ দোকানের একেবারে সামনে পর্যন্ত পৌঁছে যায়। সে সময় বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে ৬টার মধ্যেই দোকানপাট বন্ধ করতে হয়েছিল। একই ধরনের পরিস্থিতি এড়াতেই এবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার মধ্যে সব প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তাঁর তথ্য অনুযায়ী, কনট প্লেস ও আশপাশে প্রায় ১ হাজার ১০০টি বড় দোকান, ৫০০টি ছোট দোকান এবং প্রায় ১ হাজার অফিস রয়েছে।
এনডিটিএর এই সিদ্ধান্তে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিক্রিয়াও দেখা গেছে। আম আদমি পার্টির (এএপি) জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, “আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার মধ্যে কনট প্লেসের সব দোকান বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চারদিকে কঠোর নিরাপত্তা ও সারি সারি অ্যাম্বুলেন্স। মোদি সরকার কি আজ আবার যন্তর মন্তরে নিজেদের সন্তানদের ওপর কঠোর ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে?”
এদিকে চেম্বার অব ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিটিআই) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি দিয়ে দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকায় বড় ধরনের বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেওয়া এবং বিকল্প স্থান নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে।
সিটিআইর নেতা ব্রিজেশ গোয়াল বলেন, গত তিন দিনে কনট প্লেসে ব্যবসা প্রায় ৭০ শতাংশ কমেছে এবং দিল্লি জুড়ে গড়ে ৩০ শতাংশ বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাঁর দাবি, বাইরে থেকে প্রতিদিন ২ থেকে ৩ লাখ ক্রেতা দিল্লিতে এলেও এখন সেই সংখ্যা নেমে এসেছে ৪০ থেকে ৫০ হাজারে। স্থানীয় ক্রেতার উপস্থিতিও অর্ধেকের বেশি কমেছে।
তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অধিকারকে সম্মান জানানো হলেও রাজধানীর প্রধান বাণিজ্যিক এলাকায় হাজারো মানুষের সমাবেশ ও মেট্রো পরিষেবা ব্যাহত হওয়ায় প্রায় ১৫ লাখ ব্যবসায়ী এবং ১০ লাখ ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ক্ষতির মুখে পড়েছে। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে উৎসব ও বিয়ের মৌসুমের বাণিজ্যও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে।
সিটিআই কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভকারীর সংখ্যা সীমিত করার পাশাপাশি দিল্লির বাইরের কোনো নির্দিষ্ট স্থানে বড় সমাবেশ আয়োজনের ব্যবস্থারও দাবি জানিয়েছে।