ভারতের মুম্বাইয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মিথ্যা মাদক মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়ার অভিযোগে এক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযোগের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে মুম্বাই পুলিশের ওই সদস্যকে দুই শিক্ষার্থীকে হুমকি দিতে দেখা যায়। ভিডিওটি কংগ্রেস প্রকাশ করার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। তবে ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি দ্য হিন্দু।
ভিডিওতে পুলিশের পোশাক পরা ওই সদস্যকে বলতে শোনা যায়, “আবার যদি এখানে তোমাদের দেখি, তাহলে ভালো হবে না। সরাসরি ৫০ গ্রাম পাউডার (মাদক) রেখে দেব। এরপর তোমাদের জীবন শেষ। জামিনও পাবে না। তোমাদের কারণেই আমরা সমস্যায় পড়েছি। আর এখানে আসবে না।”
ঘটনার পর মহারাষ্ট্র কংগ্রেসের সভাপতি হর্ষবর্ধন সাপকালের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল রাজ্যের পুলিশ মহাপরিচালক সদানন্দ দাতে এবং মুম্বাই পুলিশ কমিশনার দেবেন ভারতীর সঙ্গে দেখা করে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায়।
পুলিশের কাছে দেওয়া স্মারকলিপিতে কংগ্রেস মুম্বাইয়ে আটক শিক্ষার্থীদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানায়। দলটির অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের আগাম আটক করা গণতান্ত্রিক অধিকারবিরোধী ও বেআইনি। একই সঙ্গে প্রতিরোধমূলক আইন অপব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগও তোলে তারা।
মহারাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ভিডিওতে দেখা ওই পুলিশ সদস্য সিয়ন থানায় চালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর মুম্বাই পুলিশ ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দেয় এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে বর্তমান দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
মুম্বাই পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, “ঘটনাটি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”