ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী দাবি করেছে, লোহিত সাগরে দুটি সৌদি তেলবাহী জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে তারা। বৃহস্পতিবার ভোরে দেওয়া এক বিবৃতিতে হুথিদের মুখপাত্র ইয়াহইয়া সারি বলেন, সম্প্রতি ঘোষিত সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ কার্যকরের অংশ হিসেবেই এ হামলা চালানো হয়েছে।
ভিডিও বার্তায় সারি জানান, এনসেলিয়া ও লায়লা নামের দুটি জাহাজকে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন দিয়ে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তাঁর দাবি, এই অভিযান ‘অন্যায় ও নিপীড়নমূলক অবরোধ ভাঙার’ প্রচেষ্টার অংশ।
তিনি আরও বলেন, একই অভিযানের সময় প্রায় ১০টি জাহাজকে ফিরে যেতে বাধ্য করেছে হুথি বাহিনী।
এদিকে সৌদি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম নিশ্চিত করেছে যে এনসেলিয়া জাহাজটি হামলার শিকার হয়েছে। তবে জাহাজটির সব নাবিক নিরাপদ রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ বলেছে, বাণিজ্যিক জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকারী আন্তর্জাতিক আইন ও কনভেনশনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এসব হামলা।
হুথি মুখপাত্র ইয়াহইয়া সারি সতর্ক করে বলেন, সৌদি আরব যদি ইয়েমেনের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে তার জবাবে সৌদি ভূখণ্ডের গভীরে বড় ধরনের অভিযান চালানো হবে এবং এর পরিণতি হবে ভয়াবহ।
জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় ইয়েমেনে দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর যুদ্ধবিরতির ফলে তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। তবে গত সপ্তাহে সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি বিমান হামলার পর নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ওই হামলার কারণে একটি ইরানি বিমান অবতরণ করতে পারেনি।
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার হামলার দায় স্বীকার করলেও হুথিরা এর জন্য সরাসরি সৌদি আরবকে দায়ী করে। পরে তারা সৌদির একটি বিমানবন্দরে পাল্টা হামলা চালায় এবং দেশটির বিরুদ্ধে সমুদ্রপথে অবরোধের ঘোষণা দেয়।
পশ্চিম ইয়েমেনে শক্ত অবস্থান থাকায় হুথিরা বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম। লোহিত সাগর ও ভারত মহাসাগরকে সংযুক্তকারী এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ সৌদি আরবের তেল রপ্তানির অন্যতম প্রধান রুট। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাতের সময় হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এই রুটের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সৌদি আরবের ৭০ শতাংশের বেশি অপরিশোধিত তেল লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর দিয়ে রপ্তানি করা হয়। ফলে বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে সৌদি তেলবাহী জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে দেশটির অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
২০২৩ সালের শেষ দিক থেকে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করা বিভিন্ন বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়ে নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে হুথিরা।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের সঙ্গে কথা বলা হুথি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত করার পরিকল্পনা কয়েক মাস ধরে প্রস্তুত করা হয়েছে। এতে নৌ-মাইন, সমুদ্রভিত্তিক বিস্ফোরক, ড্রোন এবং হেলিকপ্টারের মাধ্যমে জাহাজে ওঠার মতো কৌশল ব্যবহারের পরিকল্পনাও রয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা ভেঙে যাওয়ার পর নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ায় এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌপরিবহনে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, ইরানের মিত্র হুথিরা বাব আল-মান্দেব প্রণালিতেও চলাচল সীমিত করার চেষ্টা করতে পারে।