সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়, এরপর প্রেম এবং সেই প্রেমের টানে চীন থেকে বাংলাদেশে এসে বিয়ে—সাম্প্রতিক সময়ে এমন ঘটনা বাড়ছে। ভাষা, সংস্কৃতি ও ভৌগোলিক দূরত্ব পেরিয়ে চীনা তরুণরা বাংলাদেশি তরুণীদের জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিচ্ছেন। এর সর্বশেষ দৃষ্টান্ত দেখা গেছে যশোরে।
৩০ জুন ২০২৬ তারিখে চীনের নাগরিক লি বিং প্রেমের টানে বাংলাদেশে এসে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে যশোরের তরুণী তন্দ্রা খাতুনকে বিয়ে করেন। এর কয়েক সপ্তাহ আগে মে মাসে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ওয়াং ইউলাই নামে ৩২ বছর বয়সী এক চীনা যুবক ২০ বছর বয়সী এক তরুণীকে বিয়ে করতে আসেন। ঘটনাটি এলাকায় বেশ আলোচনার জন্ম দেয়।
চলতি বছরের এপ্রিল মাসে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় চীনের গানসু প্রদেশের রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী চেন বাও মিং প্রেমের টানে বাংলাদেশে এসে ১৯ বছর বয়সী তাসলিমা খাতুনকে বিয়ে করেন। একই বছরের মার্চে টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে জংজিয়া মামুসা নামে ২৬ বছর বয়সী এক চীনা যুবক ১৮ বছর বয়সী মায়া আক্তারকে বিয়ে করেন। তাদের পরিচয় হয়েছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে। এর আগে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে মাদারীপুরের সুমাইয়া আক্তারকে বিয়ে করতে বাংলাদেশে আসেন সি-তিয়ানজি নামে এক চীনা তরুণ।
তবে সব ঘটনা বিয়ের সফল পরিণতি পায়নি। ২০২৬ সালের জুনে কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে এম এ হাইশান নামে ৩৯ বছর বয়সী এক চীনা নাগরিক ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীকে বিয়ে করতে আসেন। কিন্তু কনের বয়স আইনি সীমার নিচে থাকায় বিয়ে সম্পন্ন হয়নি এবং তাঁকে ফিরে যেতে হয়। একই মাসে গাইবান্ধার পলাশবাড়িতে চেনজিমিং নামে এক চীনা যুবক প্রেমিকার খোঁজে বাংলাদেশে এলেও পরে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেলে তিনি বিপাকে পড়েন। পরে পুলিশের সহায়তায় তাঁকে ফেরত পাঠানো হয়।
অন্যদিকে, ফুলবাড়িতে বিয়ের মাত্র দুই মাসের মাথায় চীনা স্বামীর টাকা ও কাগজপত্র নিয়ে বাংলাদেশি স্ত্রীর পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এসব ঘটনা দেখাচ্ছে, অনলাইন পরিচয় থেকে গড়ে ওঠা ভিনদেশি প্রেম এখন আর বিচ্ছিন্ন কোনো বিষয় নয়। তবে এমন সম্পর্কে আবেগের পাশাপাশি আইনি বয়স, পারিবারিক সম্মতি, পরিচয় যাচাই ও নিরাপত্তার বিষয়গুলোও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।