বরিশালের মুলাদী সরকারি কলেজে মোবাইল ফোন নম্বর ব্লক করাকে কেন্দ্র করে দ্বাদশ শ্রেণির দুই ছাত্রীকে শ্রেণিকক্ষ থেকে ডেকে নিয়ে মারধর, চুল টানাটানি ও জুতাপেটার অভিযোগ উঠেছে তাঁদেরই এক সহপাঠী ও কয়েকজন বহিরাগতের বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে মুলাদী সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
সাভার ও আশুলিয়ায় পৃথক অভিযানে ইয়াবাসহ তিন মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে ডিবি
ভুক্তভোগী দুই শিক্ষার্থী হলেন মুলাদী সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী তোয়া ও সুমি। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন তাঁদের সহপাঠী উম্মে হাবিবা, তাঁর বড় বোন নাসরিন এবং কয়েকজন বহিরাগত তরুণ-তরুণী।
অভিযোগ অনুযায়ী, তোয়া, সুমি ও উম্মে হাবিবা পরস্পরের বান্ধবী ছিলেন। তাঁরা একসঙ্গে কলেজে যাতায়াত করতেন। ঘটনার কয়েক দিন আগে একটি বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়।
এর জেরে তোয়া ও সুমি উম্মে হাবিবার মোবাইল ফোন নম্বর ব্লক করে দেন। এতে হাবিবা ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁদের ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার তোয়া ও সুমি কলেজে গেলে উম্মে হাবিবা কেয়া নামের আরেক সহপাঠীর মাধ্যমে তাঁদের শ্রেণিকক্ষ থেকে ডেকে বাইরে নিয়ে আসেন।
এরপর হাবিবা, তাঁর বড় বোন নাসরিন এবং তাঁদের সঙ্গে আসা কয়েকজন বহিরাগত তরুণ-তরুণী দুই ছাত্রীর ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগে বলা হয়েছে, হামলাকারীরা প্রকাশ্যে দুই ছাত্রীকে চড়-থাপ্পড় ও জুতাপেটা করেন। তাঁদের চুল ধরে টানাটানি, কিল-ঘুষি এবং পেটে লাথি মারার অভিযোগও রয়েছে।
এ ছাড়া দুই ছাত্রীর পোশাক ধরে টানাটানি করে তাঁদের লাঞ্ছিত করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, হামলার সময় দুই ছাত্রীকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। ভবিষ্যতে কলেজে আসা এবং পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়েও ভয়ভীতি দেখানো হয়।
এ ঘটনার পর নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তোয়া ও সুমি মুলাদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
মুলাদী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ দেলোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, কলেজ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ তদন্তে দুই সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
পাশাপাশি ভুক্তভোগী ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে থানা পুলিশ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে মুলাদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ গোলাম সরওয়ার জানিয়েছেন, ঘটনাটি কলেজ ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে ঘটায় প্রাথমিকভাবে বিষয়টি সমাধানের দায়িত্ব কলেজের অধ্যক্ষকে দেওয়া হয়েছে।
কলেজ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান না হলে প্রশাসন পরবর্তী কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।