দিনাজপুর শহরের ঐতিহ্যবাহী ঈদগাহ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ফজলুর রহমানকে রাজকীয় আয়োজনে অশ্রুসিক্ত বিদায় জানিয়েছেন শিক্ষার্থী, প্রাক্তন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সহকর্মীরা। দীর্ঘ ২০ বছরের কর্মজীবন শেষে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর ২০২৬) তাঁর অবসর উপলক্ষে আয়োজিত বিদায় অনুষ্ঠান পরিণত হয় ভালোবাসা ও স্মৃতিচারণের এক আবেগঘন মিলনমেলায়।
‘কাউকে হেয় করে এআই ভিডিও বানানো বিনোদন নয়, অপরাধ’: মেহজাবীন
২০০৬ সালে বিদ্যালয়টিতে যোগদানের পর দুই দশক ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন ফজলুর রহমান। অবসরের দিন সকালে বিদ্যালয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু শিক্ষার্থীরা তাঁর জন্য আয়োজন করেছিলেন বিশেষ চমক। সাজানো ঘোড়ার গাড়ি নিয়ে তাঁরা হাজির হন শিক্ষকের বাসায়। সেখান থেকে ঘোড়ার গাড়িতে চড়িয়ে তাঁকে বিদ্যালয়ে নিয়ে আসা হয়।
বিদ্যালয়ে পৌঁছানোর পর ফুল, ক্রেস্ট ও উপহার দিয়ে তাঁকে সম্মান জানানো হয়। শিক্ষার্থীদের ভালোবাসায় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বিদায়ী প্রধান শিক্ষক। মাইকে বিদায়ী বক্তব্য, স্মৃতিচারণ এবং শিক্ষার্থীদের অশ্রুসিক্ত উপস্থিতিতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। একে একে শিক্ষার্থীরা তাঁর কাছে এসে দোয়া নেন। বর্তমান শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন কলেজে অধ্যয়নরত ও কর্মজীবনে প্রবেশ করা প্রাক্তন শিক্ষার্থীরাও প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানাতে আসেন। কর্মদিবস শেষে আবারও সাজানো ঘোড়ার গাড়িতে তাঁকে বাসায় পৌঁছে দেন শিক্ষার্থীরা।
বিদায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এ এস এম হাবিবুল হাসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা কর্মকর্তা খন্দকার মো. আলাউদ্দিন আল আজাদ। এ ছাড়া সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কাফীসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও আমন্ত্রিত অতিথিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
শিক্ষকতা ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৪ সালে মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারে সারা দেশ থেকে ‘প্রিয় শিক্ষক’ হিসেবে প্রথম স্থান অর্জন করেন ফজলুর রহমান। শিক্ষকতার পাশাপাশি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধেও ভূমিকা রেখেছেন তিনি। তাঁর উদ্যোগে একাধিক বাল্যবিবাহ বন্ধ হয়েছে এবং এ কাজের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশংসা ও সম্মাননা পেয়েছেন।
শিক্ষার্থীদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে বিদ্যালয়ের মেয়েদের নিয়ে একটি ফুটবল দলও গড়ে তোলেন তিনি। তাঁর উদ্যোগে গড়ে ওঠা দলটি শতাধিক চ্যাম্পিয়ন ট্রফি অর্জন করেছে এবং সেখান থেকে জাতীয় দলের খেলোয়াড়ও তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন দেখতে, সাহসী হতে ও নিজেদের যোগ্যতা বিকাশে উৎসাহিত করা এই শিক্ষকের কর্মজীবনের শেষ দিনটি স্মরণীয় হয়ে থাকল ঘোড়ার গাড়িতে ব্যতিক্রমী বিদায় আর শিক্ষার্থীদের ভালোবাসায়।