গোপালগঞ্জ জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্র দিয়ে প্রবাহিত মধুমতি লেক ও পাঁচুড়িয়া খালে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল দিয়ে অবাধে মাছ শিকার চলছে। দিনরাত এসব জালের ব্যবহারে রেণু-পোনা থেকে শুরু করে প্রজননক্ষম বড় মাছও ধরা পড়ছে। এতে স্থানীয় মৎস্যসম্পদ ও জলজ পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পাঁচুড়িয়া খালের মধুমতি লেকের সংযোগস্থল, জেলা খাদ্যগুদামসংলগ্ন এলাকা এবং পাঁচুড়িয়া পৌর নিউ মার্কেটের পাশের পানিতে একের পর এক চায়না দুয়ারী জাল পেতে রেখেছেন অসাধু মৎস্য শিকারিরা।
বিয়ে ছাড়াই স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বসবাসের অভিযোগ, ইমামসহ দুজন আটক
শহরের পাশ দিয়ে মানিকদাহ থেকে হরিদাসপুর পর্যন্ত বিস্তৃত মধুমতি লেক এবং এর শাখা পাঁচুড়িয়া খালের বিভিন্ন স্থানে নিষিদ্ধ মাছ ধরার সরঞ্জাম ব্যবহার করা হচ্ছে।
দিনরাত ২৪ ঘণ্টা প্রকাশ্যে এসব জাল দিয়ে মাছ শিকার চললেও তা বন্ধ হচ্ছে না।
চায়না দুয়ারী জালের সূক্ষ্ম ফাঁদে ছোট-বড় সব ধরনের মাছ আটকা পড়ছে। রেণু-পোনা থেকে শুরু করে প্রজননক্ষম বড় মাছও এসব জাল থেকে রক্ষা পাচ্ছে না।
ফলে জলাশয়ে মাছের স্বাভাবিক বংশবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশীয় প্রজাতির মাছের অস্তিত্ব ও প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় পরিবেশবিদ ও সচেতন নাগরিকদের মতে, উন্মুক্ত জলাশয়ে দীর্ঘদিন ধরে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জালের ব্যবহার চলতে থাকলে দেশীয় প্রজাতির বিভিন্ন মাছ বিলুপ্তির পথে চলে যেতে পারে।
তাঁরা মনে করেন, নির্বিচারে রেণু-পোনা ও প্রজননক্ষম মাছ শিকারের কারণে মাছের প্রাকৃতিক প্রজননব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি লেক ও খালের পানির বাস্তুতন্ত্র এবং প্রাকৃতিক পরিবেশও হুমকির মুখে পড়ছে।
বিশেষ করে মধুমতি লেকের সঙ্গে সংযুক্ত পাঁচুড়িয়া খালের বিভিন্ন স্থানে অবৈধ জালের বিস্তার স্থানীয় মৎস্যসম্পদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সচেতন নাগরিকদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে শহরের এসব জলাশয় মৎস্যশূন্য হয়ে পড়তে পারে।
এ অবস্থায় মধুমতি লেক ও পাঁচুড়িয়া খালে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা, নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল জব্দ এবং অবৈধভাবে মাছ শিকারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় পরিবেশবিদ ও সচেতন নাগরিকরা।