শারদীয় দুর্গাপূজা সামনে রেখে যশোরের শার্শা উপজেলা ও বেনাপোলে মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে প্রতিমা তৈরির শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে দিন-রাত কাজ করছেন মৃৎশিল্পীরা। বাঁশ, কাঠ, খড় ও মাটি দিয়ে দেবী দুর্গাসহ লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশের প্রতিমা তৈরির কাজ এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে।
নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাং বিরোধী অভিযানে আটক ৪৫
এবার বেনাপোল পৌর এলাকা ও শার্শা উপজেলার ১১ ইউনিয়নে মোট ৩২টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে পৌর এলাকায় চারটি এবং ১১ ইউনিয়নে ২৮টি পূজামণ্ডপ রয়েছে।
উৎসব যত ঘনিয়ে আসছে, মণ্ডপ ও প্রতিমাশিল্পীদের ব্যস্ততাও তত বাড়ছে। প্রায় এক মাস আগে শুরু হওয়া প্রতিমা তৈরির কাজ এখন শেষ ধাপে। কোথাও প্রতিমার মাটির প্রলেপ শুকানো হচ্ছে, আবার কোথাও চলছে সূক্ষ্ম কারুকাজ। এসব কাজ শেষ হলেই শুরু হবে রং-তুলির কাজ।
বিভিন্ন মণ্ডপ ও প্রতিমাশিল্পীদের কর্মশালা ঘুরে দেখা গেছে, বাঁশ, কাঠ ও খড় দিয়ে কাঠামো তৈরির পর মাটি দিয়ে প্রতিমার অবয়ব ফুটিয়ে তুলছেন শিল্পীরা। তাঁদের ভাষ্য, বৃষ্টির কারণে মাটি শুকাতে মাঝেমধ্যে সমস্যা হলেও বর্তমানে রোদ ওঠায় কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া যাচ্ছে।
তবে প্রতিমা তৈরির বিভিন্ন উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় খরচও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন শিল্পীরা। একজন প্রতিমাশিল্পী বলেন, বাঁশ, কাঠ, সুতলি ও এঁটেল মাটির দাম আগের তুলনায় বেড়েছে। প্রায় ৪০ হাজার টাকা দামের একটি প্রতিমা তৈরি করতে ৩০ হাজার টাকার বেশি খরচ হয়ে যাচ্ছে। ফলে তাঁদের লাভও কমেছে।
মৃৎশিল্পীদের ব্যস্ততার পাশাপাশি পূজা উদ্যাপন কমিটিগুলোও মণ্ডপ সাজানো, আলোকসজ্জা ও নিরাপত্তাসহ অন্যান্য প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে। দুর্গোৎসব ঘিরে এরই মধ্যে শার্শা ও বেনাপোলে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে।
উপজেলা পূজা উদ্যাপন কমিটির সভাপতি বৈদ্যনাথ দাস বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসব সুন্দর ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্যাপনের লক্ষ্যে প্রতিমা তৈরি থেকে শুরু করে সব ধরনের প্রস্তুতি জোরেশোরে চলছে। ভক্তদের অংশগ্রহণে এবারও আনন্দঘন পরিবেশে দুর্গোৎসব পালিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
আগামী ১০ অক্টোবর শুভ মহালয়ার মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক আবহ শুরু হবে। এরপর ১৭ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে মূল পূজা শুরু হবে। ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে পাঁচ দিনের দুর্গোৎসব।