নিজ সম্পত্তি দখল, নগদ অর্থ আত্মসাৎ এবং হয়রানির অভিযোগে ভাড়াটিয়া হুমায়ুন কবিরসহ সংশ্লিষ্টদের বিচার দাবি করেছেন মহাখালীর বিধবা গৃহবধূ রোজি খন্দকার।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে রোজি খন্দকারের লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তার মেয়ে কানিজ ফাতেমা। লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, তাদের বাসার ভাড়াটিয়া হুমায়ুন কবির বিভিন্ন সময় নানা অজুহাতে কয়েক ধাপে মোট ৪৩ লাখ টাকা নিয়েছেন। টাকা ফেরত চাইলে তিনি উল্টো হয়রানি শুরু করেন।
আরো পড়ুন : তাজমহলের আদলে নির্মিত ‘বাংলার তাজমহল’ ঘিরে দর্শনার্থীদের ভিড়
কানিজ ফাতেমা জানান, তার বাবা মারা যাওয়ার পর তাদের পরিবারের সঙ্গে ভাড়াটিয়া হুমায়ুন কবির ও তার স্ত্রীর সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এর আগে সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে তারা পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করেন। একপর্যায়ে বিভিন্ন প্রয়োজনে টাকা নেওয়া শুরু করেন।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, কানিজ ফাতেমা পূর্বে ষষ্ঠ তলায় থাকতেন। ওই সময় ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকা হুমায়ুন কবির তার মায়ের বাসায় নিয়মিত যাতায়াত করতেন এবং বিভিন্নভাবে সম্পর্ক তৈরি করেন। পরে তার মাকে ভয় দেখিয়ে বলা হয়, মেয়েরা তাকে মেরে ফেলবে এবং সম্পত্তি নিয়ে নেবে। এ ধরনের কথাবার্তার কারণে পরিবারের মধ্যে সন্দেহ ও দূরত্ব তৈরি হয় বলে অভিযোগ করা হয়।
লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, তাদের বাসার ভাড়াটিয়া হুমায়ুন কবির বিভিন্ন সময় নানা অজুহাতে কয়েক ধাপে মোট ৪৩ লাখ টাকা নিয়েছেন। টাকা ফেরত চাইলে তিনি উল্টো হয়রানি শুরু করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হুমায়ুন কবির ও তার পরিবারের সদস্যরা তাদের প্রাপ্য সম্পত্তির অংশ বুঝিয়ে দেওয়ার কথা বলে নানা জটিলতা সৃষ্টি করেন। বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করলেও কোনো সমাধান না হওয়ায় তারা আইনের আশ্রয় নেন।
কানিজ ফাতেমার অভিযোগ, প্রায় দুই বছর ধরে হুমায়ুন কবির তাদের বাড়িতে ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস বিল ও পানির বিল পরিশোধ না করেই বসবাস করছেন। টাকা ফেরতের কথা বললে তিনি জায়গা বিক্রি করে টাকা পরিশোধ করবেন বলে আশ্বাস দিলেও তা করেননি।
আরো পড়ুন:গণভবনের পেছনে ককটেল ও পেট্রোল বোমা উদ্ধার
তিনি আরও অভিযোগ করেন, একপর্যায়ে হুমায়ুন কবির তাদের একটি ফ্ল্যাট দখল করে তালা দিয়ে চলে যান। পরে টাকা না দেওয়ার বিষয়ে চাপ সৃষ্টি করলে গাজীপুর আদালতে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, ওই মামলাটি হয়রানির উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, হুমায়ুন কবিরের স্ত্রী নুরুন্নাহার এবং ছেলে রাশিদুল প্রধান কাইফও এ ঘটনায় জড়িত। এছাড়া অভিযোগ অনুযায়ী, হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে এর আগেও টাকা নেওয়া ও ফেরত দেওয়ার বিষয়ে একাধিকবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের ঘটনা ঘটেছে।
সংবাদ সম্মেলনে কানিজ ফাতেমা বলেন, তার মা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। তারা প্রতারিত হয়েছেন দাবি করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে।