রাজধানীর দারুস সালাম এলাকায় কম দামে বিমান টিকিট কেনাবেচার প্রলোভন দেখিয়ে এক অবসরপ্রাপ্ত সরকারি ইঞ্জিনিয়ারের কাছ থেকে ৩৪ লাখ ৫৪ হাজার ২৮৬ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার, বিল এলো ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকা!
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ইঞ্জিনিয়ার এন. সায়েম উদ্দীন আহমেদ (৬২) বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে দারুস সালাম থানায় মামলা করেন। মামলাটি ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে দায়ের করা হয়। মামলায় ৪০৬/৪২০/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
১৭ সেপ্টেম্বর মামলাটির তদন্তভার পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর) গ্রহণ করে। মামলাটি তদন্ত করছেন এসআই (নিঃ) মাহমুদুল হাসান।
পিবিআই জানায়, তথ্যপ্রযুক্তি, ব্যাংক ও বিকাশ লেনদেনের তথ্য বিশ্লেষণ এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ২১ সেপ্টেম্বর খুলনার হরিণটানা থানা এলাকা থেকে মো. মেহেদী হাসান সোহাগ (২৭) এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন খালিশপুর থানা এলাকা থেকে আবুল হাসান নাঈম (২৪)-কে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে ২২ সেপ্টেম্বর আড়ংঘাটা থানা এলাকা থেকে সুমাইয়া খাতুন শান্তা (২৪)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। পিবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার তিনজনই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
তদন্তে পিবিআই জানতে পারে, মেহেদী হাসান সোহাগ কম্বোডিয়ায় গিয়ে চায়নিজ প্রতারক চক্রের কাছে ৩ হাজার ডলারে বিক্রি হন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। পরে তাকে বাংলাদেশভিত্তিক প্রতারণা কার্যক্রম সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয় বলে জানায় পিবিআই।
পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, সোহাগ বাংলাদেশি নারীদের ছবি ব্যবহার করে ফেসবুক আইডি তৈরি করতেন এবং সেসব আইডির মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করে হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রামে যুক্ত করতেন।
পরে ভুক্তভোগীকে অনলাইনে কম দামে বিমান টিকিট কেনাবেচার প্রস্তাব দেওয়া হয়। প্রস্তাবে বিশ্বাস করে ভুক্তভোগী প্রথমে ৮ লাখ ৬৯ হাজার ৬৫১ টাকা পাঠান।
পরে টাকা ফেরতের জন্য লাভসহ ১১ লাখ টাকা দেওয়ার কথা বলা হয়। এরপর সিকিউরিটি বাবদ অতিরিক্ত টাকা, ভিআইপি চ্যানেলে যুক্ত হওয়া এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের কেওয়াইসি ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে আরও টাকা নেওয়া হয় বলে পিবিআই জানায়।
এভাবে মোট ৩৪ লাখ ৫৪ হাজার ২৮৬ টাকা নেওয়া হয় বলে মামলার তদন্তে উঠে এসেছে।
পিবিআই জানায়, ভুক্তভোগীর পাঠানো টাকা সুমাইয়া খাতুন শান্তার ব্যাংক হিসাবে নেওয়া হয়। পরে বিভিন্ন অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে তা কম্বোডিয়ায় পাঠানো হয়। আবুল হাসান নাঈম এ কাজে সহযোগিতা করতেন বলে তদন্তে জানা গেছে।
তদন্ত সংস্থা জানায়, সুমাইয়ার কাছ থেকে তিনটি ব্যাংক কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। প্রতারণায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
সূত্র : পিবিআই