ঝালকাঠি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ধর্ষণ মামলার যুক্তিতর্ক শুনানির সময় আসামিকে স্বামী হিসেবে পাওয়ার দাবি করে হট্টগোল করার অভিযোগ উঠেছে মামলার বাদী রুনু আক্তারের বিরুদ্ধে।
রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মামলার যুক্তিতর্ক শুনানির সময় এ ঘটনা ঘটে।
মামলার বাদী রুনু আক্তার বিচার না চেয়ে আসামি আল-আমিন মোল্লাকে বিয়ে করতে চান বলে আদালতে দাবি করেন। এ সময় তিনি বিষ খেয়ে আত্মহত্যার হুমকি দেন বলেও জানা গেছে।
ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ শরীফ মোহাম্মদ সানাউল হক তাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন।
বিচারক তাকে বলেন, আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী সাজা হতে পারে। তবে কাউকে বিয়ের জন্য বাধ্য করা আদালতের এখতিয়ার নয়।
এ সময় রুনু আক্তার বলেন, তিনি আসামির শাস্তি চান না, তাকে স্বামী হিসেবে চান এবং তার চাকরি ফেরত চান।
ঝালকাঠি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট মো. আককাস সিকদার জানান, নারী ও শিশু মামলা নম্বর ১২৫/২৩-এর যুক্তিতর্ক শুনানির দিন এ ঘটনা ঘটে।
তিনি জানান, মামলার বাদী রুনু আক্তার ২০২৩ সালের ১০ সেপ্টেম্বর অভিযোগ করেন যে, ২০২০ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে ২০২৩ সালের ২০ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে বিয়ের প্রলোভন ও মিথ্যা বিয়ের নাটক সাজিয়ে তৎকালীন এএসআই আল-আমিন মোল্লা তাকে ধ/র্ষ/ণ করেছেন।
২০২৪ সালের ২৮ নভেম্বর আল-আমিন মোল্লার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়। পরে মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়।
মামলায় বাদী, বাদীর নাবালক ছেলে মুবিন হোসেনসহ চারজন সাক্ষ্য দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
পিপি আককাস সিকদার বলেন, বাদী লিখিত দরখাস্তের মাধ্যমেও আসামির সঙ্গে বিয়ের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী মল্লিক মুহা. নাসির উদ্দিন কবীর অভিযোগ করেন, শুনানির সময় বাদী তার ওপরও আক্রমণাত্মক আচরণ করেছেন।
মামলার বাদী রুনু আক্তার বলেন, তিনি আল-আমিনকে স্বামী হিসেবে ফিরে পাওয়ার জন্য মামলা করেছেন এবং তার সাজা চান না।