রাজধানীর আদাবরে একটি বহুতল ভবন দখলচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। ভবন মালিক ব্যবসায়ী মো. আমিনুর রহমান খান এ ঘটনায় আদাবর থানায় মামলা করেছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৬টার দিকে আদাবরের শ্যামলী হাউজিংয়ের ৬ নম্বর রোডের ৪১-৪২ নম্বর প্লটের ওই ভবনে রামদা ও বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে ১৫-২০ জনের একটি দল হামলা চালায়।
অন্তঃসত্ত্বা নারীকে লাথি মেরে গর্ভের সন্তান হত্যার অভিযোগ
ভবনের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মুখোশ পরা কয়েকজন ব্যক্তি বাইরে থেকে গেট খুলে দেওয়ার কথা বলছে। ভেতরে থাকা লোকজন গেট খুলতে না চাইলে তারা গেট ও জানালা ভাঙচুরের চেষ্টা করে বলে অভিযোগ।
আরেকটি ফুটেজে দেখা যায়, লাল টি-শার্ট পরা এক ব্যক্তি কোমর থেকে রামদা বের করে গেটের দিকে এগিয়ে গিয়ে বারবার কোপাতে থাকেন। পরে তিনি সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙার চেষ্টা করেন।
অভিযোগ রয়েছে, পরে আরও একজন রামদা হাতে তার সঙ্গে যোগ দেন। দুজন মিলে গেট ও জানালায় হামলা চালান এবং আরেকজন সিসিটিভি ক্যামেরার দিকে ইট ছুড়ে ভাঙচুর করেন।
ভবন মালিকের অভিযোগ, একই চক্র ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে প্রায় দেড় বছর ভবনটি দখলে রেখেছিল। চলতি বছরের মার্চে চক্রের কয়েকজন সদস্যকে গ্রেপ্তারের পর ভবনের দখল মূল মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
ভবনের ম্যানেজার ফরহাদ হোসেন জানান, হামলাকারীরা প্রথমে চাঁদা দাবি করে এবং গেট খুলে দিতে বলে। গেট না খোলায় তারা হামলা চালায় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি জানান, ঘটনার সময় তিনি ৯৯৯ নম্বরে কল করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে।
ভবন মালিকের করা মামলায় খুরশীদ আলম খানসহ ৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাত আরও ১৫-২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, আসামিদের একজনের কাছে পিস্তল ছিল। তারা ভবনের লোকজনকে গেট খুলে চলে যেতে বলে। রাজি না হওয়ায় রামদা দিয়ে গেটে হামলা এবং জানালায় ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়।
আমিনুর রহমানের অভিযোগ, চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় ভবনটি আবার দখল করার উদ্দেশ্যে হামলা চালানো হয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ১০ কাঠার জমিটি আমিনুর রহমান ও তার বড় বোন উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছিলেন। ভবন নির্মাণের পর প্রায় ২৪ বছর ধরে তারা এর দখলে ছিলেন।
ভবন মালিকের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ১৭ আগস্ট কেয়ারটেকার ও নিরাপত্তাপ্রহরীকে মারধর এবং ভেতরের লোকজনকে হুমকি দিয়ে একটি চক্র ভবনে প্রবেশ করে নিয়ন্ত্রণ নেয়।
পুলিশের তদন্তে বলা হয়েছে, ওই সময় ভাড়াটিয়াদের বের করে দিয়ে নিজেদের কেয়ারটেকার ও নিরাপত্তাপ্রহরী বসানো হয়েছিল।
তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভবনটি দখলে রেখে ৪৪ ভাড়াটিয়ার কাছ থেকে ১ কোটি ৫৬ লাখ টাকার বেশি আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
আদাবর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নুরুল ইসলাম জানান, ভবনটি আগে দখলের ঘটনায় একটি মামলা চলমান রয়েছে। বর্তমান ঘটনার বিষয়েও পুলিশ কাজ করছে।