গাজীপুরের জয়দেবপুরে খালের পানিতে ব্রিফকেস ও প্লাস্টিকের বস্তায় পাওয়া খণ্ডিত মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পিবিআই জানিয়েছে, নিহত নারী হলেন ডলি আক্তার (৩০)। তিনি গাজীপুরের জয়দেবপুর থানাধীন বানিয়ারচালা মেম্বারবাড়ি এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
হারিয়ে যাওয়া ছেলেকে এক পা কাটা অবস্থায় ৭ মাস পর দেখলেন বাবা
গত ১১ সেপ্টেম্বর ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে ভবানীপুর এলাকায় একটি খালের পানিতে ব্রিফকেস ও প্লাস্টিকের বস্তায় রাখা অবস্থায় এক নারীর খণ্ডিত ও অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ঘটনাটি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পিবিআই গাজীপুর জেলা ছায়া তদন্ত শুরু করে।
পিবিআইয়ের তদন্তে প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ, গোয়েন্দা তথ্য ও স্থানীয় সূত্রের সহায়তায় নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের ভাই সোহেল জয়দেবপুর থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
পিবিআই জানায়, ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মো. মিজানুর রহমান মিল্টন (২৪), মো. মিশন ইসলাম (২২) এবং বানু আক্তার (৪৩) নামের তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তদন্ত সংস্থার দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বটি দা, লাশ প্যাকেট করার কাজে ব্যবহৃত টেপের অংশ, নিহতের জাতীয় পরিচয়পত্র, মোবাইল ফোন ও জুতা উদ্ধার করা হয়েছে।
পিবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, নিহত ডলি আক্তারের সঙ্গে মিশন ইসলামের দীর্ঘদিনের পরিচয় ও সম্পর্ক ছিল। তারা একই পোশাক কারখানায় কাজ করার সময় পরিচিত হন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
পিবিআই জানিয়েছে, গত ৮ সেপ্টেম্বর রাতে ডলি মিশনের ভাড়া বাসায় যান। সেখানে মিশন, তার মা বানু আক্তার ও ডলি একসঙ্গে রাতের খাবার খান। পরে বানু আক্তার অন্য কক্ষে চলে গেলে মিশন ও ডলি একই কক্ষে ছিলেন।
তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, পূর্বের বিভিন্ন বিষয় ও বিয়ে সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে মিশনের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে ডলিকে হত্যার পর মরদেহ গোপন করার চেষ্টা করা হয় বলে পিবিআই জানিয়েছে।
পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যার পর মরদেহ গোপন করতে একটি স্যুটকেস আনা হয়। মরদেহ স্যুটকেসে না ধরায় সেটি খণ্ডিত করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে। পরে মরদেহের অংশ স্যুটকেস ও বস্তায় ভরে গাজীপুরের ভবানীপুর এলাকায় নিয়ে পানিতে ফেলে দেওয়া হয়।
পিবিআই আরও জানায়, মিশন তার বন্ধু মিল্টনের সহায়তায় মরদেহ সরিয়ে নেয়। পরে মিল্টন বিষয়টি জানতে পারেন বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার তিনজন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।
পিবিআই গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার বলেন, অজ্ঞাত ও পচনশীল মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা শুরুতে কঠিন ছিল। তবে আধুনিক প্রযুক্তি, ক্রাইমসিন বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয়ে নিহতের পরিচয় এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অপরাধ যত কৌশলেই সংঘটিত হোক না কেন, পেশাদার তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব।
পিবিআই জানিয়েছে, মামলার তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।