আসিফ নজরুলের পোষা ছাগল চুরির ঘটনা এবং এ বিষয়ে জাতীয় নাগরিক কমিটির নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর মন্তব্য ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।
গত ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে সাংবাদিক খালেদ মুহিউদ্দীনের সঞ্চালিত একটি টকশোতে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল তাঁর সরকারি বাসভবন থেকে ছাগল চুরির ঘটনা নিয়ে কথা বলেন। পরদিন এ বিষয়ে মন্তব্য করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
শাপলা তুলতে গিয়ে মৎস্য ঘেরে ডুবে প্রাণ গেল দুই বোনের
টকশোতে আসিফ নজরুল জানান, ঘটনাটি তাঁর জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক ছিল। তিনি বলেন, সরকারি বাসভবনে একাকীত্ব কাটানোর জন্য তাঁর সাড়ে ৯ বছর বয়সী মেয়ের জন্য একটি ছাগল কিনেছিলেন। ছাগলটির সঙ্গে তার মেয়ের আবেগ জড়িয়ে ছিল।
আসিফ নজরুলের বক্তব্য অনুযায়ী, জুলাইয়ের আন্দোলনের সময় কিছু ব্যক্তি সরকারি বাসভবন থেকে ছাগলটি নিয়ে গিয়ে জবাই করে খেয়ে ফেলেন বলে তিনি দাবি করেন। তিনি আরও জানান, বিষয়টি জানার পর তাঁর মেয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে এবং প্রায় দেড় দিন খাবার খায়নি।
এরপর ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ একটি গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এ বিষয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, আসিফ নজরুলের ছাগল একটি নয়, দুটিই খাওয়া উচিত ছিল। তাঁর এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তাঁর বক্তব্যে দাবি করেন, ওই ঘটনার সঙ্গে তিনি বা তাঁর সংগঠনের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ বিষয়ে তাদের জড়ানোর যে আলোচনা চলছে, তা তিনি অস্বীকার করেন।
তিনি আরও বলেন, সাবেক সরকারের সময়ে আসিফ নজরুল সরকারি বাসভবনে পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে গবাদিপশু পালনের ব্যবস্থা করেছিলেন বলে তিনি সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ছাগল খাওয়ার ঘটনার সঙ্গে তিনি নিজে জড়িত ছিলেন না।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর মন্তব্য প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই মন্তব্যটিকে অসংবেদনশীল বলে সমালোচনা করেছেন। আবার কেউ কেউ ঘটনাটিকে রাজনৈতিক বিতর্কের অংশ হিসেবে দেখছেন।
তবে ছাগল চুরির ঘটনায় কারা জড়িত ছিলেন বা ঘটনার আইনগত কোনো অগ্রগতি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশিত হয়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যের ভিত্তিতেই বিষয়টি বর্তমানে আলোচনায় রয়েছে।