ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনকে জলদস্যুমুক্ত করার প্রক্রিয়ায় এক যুগান্তকারী সাফল্য অর্জিত হয়েছে। র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) কাছে সক্রিয় পাঁচটি জলদস্যু বাহিনীর মোট ৫৯ জন সদস্য আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেছেন। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৫৯টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, ৫৪১ রাউন্ড তাজা গুলি ও ১৪টি খালি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা যায়, সুন্দরবন ও সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চলমান বিশেষ অভিযান ‘অপারেশন রি-স্টোর পিস ইন সুন্দরবন’-এর অংশ হিসেবে এই বড় পদক্ষেপটি বাস্তবায়িত হয়। গত ৩১ আগস্ট সুন্দরবনের বিভিন্ন অঞ্চলের ৫টি শীর্ষ দস্যু বাহিনীর সদস্যরা অস্ত্রসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে ধরা দেন।
আত্মসমর্পণকারী জলদস্যু বাহিনীর তালিকা ও সদস্য সংখ্যা, বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ১৬ জন, আনারুল বাহিনীর ১৩ জন,আফজাল ওরফে দুলাভাই বাহিনীর ১৫ জন, আফতাব বাহিনীর ৮ জন, মিজান বাহিনীর ৭ জন।
গত তিন দিনের বিশেষ গোয়েন্দা অভিযানে উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে চারটি শর্টগান, ৪৭টি ওয়ান শুটারগান, চারটি পাইপগান, তিনটি এয়ারগান, একটি পয়েন্ট ২২ বোর রাইফেল এবং সাতটি ওয়াকিটকি। র্যাব জানিয়েছে, আত্মসমর্পণকারী এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, আশির দশক থেকে সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল জেলে, বাওয়ালি ও মউয়ালরা জলদস্যুদের চাঁদাবাজি, অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছেন। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের প্রায় ২৫ লাখ মানুষের জীবিকার প্রধান অবলম্বন এই বনকে সম্পূর্ণ নিরাপদ করতে র্যাব, কোস্ট গার্ড, নৌ-পুলিশ, বন বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
এদিকে, বন্যপ্রাণীর প্রজনন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে পর্যটক ও বনজীবীদের জন্য সুন্দরবন আবার উন্মুক্ত করা হয়েছে। বন উন্মুক্ত হওয়ার প্রাক্কালে জলদস্যুদের এই আত্মসমর্পণ উপকূলীয় অঞ্চলের অর্থনীতি, পর্যটক চলাচল এবং বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যারা এখনো দস্যুতার পথ ছাড়েননি, তাদের দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানানো হচ্ছে। স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে ইচ্ছুকদের সর্বোচ্চ আইনি সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হলেও অপরাধমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখলে জিরো টলারেন্স নীতি অনুযায়ী কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে।