কুমিল্লায় সংবাদ সংগ্রহে যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের মারধরের ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামি মো. শাওনকে গ্রে/প্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বুধবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর এলাকা থেকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার শাওন সদর দক্ষিণ উপজেলার শ্রীমন্তপুর গ্রামের মো. সেলিম মিয়ার ছেলে। তার গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামছুল আলম শাহ।
ডিবির ওসি জানান, সাংবাদিকদের ওপর হামলার পর শাওনসহ অন্য আসামিরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় থানায় মামলা হওয়ার পর অভিযান শুরু করে পুলিশ। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় শাওনের অবস্থান শনাক্ত করে রাত ৩টার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে বুধবার দুপুরে সদর দক্ষিণ উপজেলার উত্তর রামপুরের মিস্ত্রীপুকুর পাড় এলাকায় সাংবাদিকদের ওপর হা/মলার ঘটনা ঘটে।
ঘটনাস্থলে ছিলেন যমুনা টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার ও কুমিল্লা প্রেসক্লাবের নির্বাহী পরিষদের সদস্য রফিকুল ইসলাম চৌধুরী খোকন, ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের কুমিল্লা প্রতিনিধি ও কুমিল্লা টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের নির্বাহী সদস্য তানভীর দীপু এবং স্টার নিউজের কুমিল্লা ব্যুরো রিপোর্টার ও ফোরামের তথ্যপ্রযুক্তি ও আপ্যায়ন সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মারুফ।
মা/রধরের শিকার তানভীর দীপুর ভাষ্য, বুধবার দুপুরে তারা সংবাদ সংগ্রহের জন্য লালমাইয়ের দিকে যাচ্ছিলেন। পদুয়ার বাজার মোড়ে যানজট দেখে উত্তর রামপুর বিদ্যুৎ অফিসের সামনের সড়ক দিয়ে কুমিল্লা-নোয়াখালী মহাসড়কে ওঠার চেষ্টা করেন।
সেখানে স্থানীয়দের তৈরি একটি লোহার ব্যারিকেডে কয়েকটি গাড়ি আটকে গিয়ে তীব্র যানজট তৈরি হয়। যানজটের কারণ দেখতে তারা গাড়ি থেকে নামেন এবং ব্যারিকেডটি ওপরে তুলে আটকে থাকা গাড়িগুলো পার করে দেওয়ার চেষ্টা করেন।
তানভীর দীপুর অভিযোগ, এ সময় শাওনসহ কয়েকজন যুবক এসে ব্যারিকেড তোলার কারণ জানতে চেয়ে তাদের গালিগালাজ শুরু করেন। একপর্যায়ে তাদের দুইজনকে কিলঘুষি মারা হয়। সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরও রড ও লাঠি দিয়ে মা/রধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, আবদুল্লাহ আল মারুফের ঘাড়ে আঘাত লাগলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়ে জ্ঞান হারান।
কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ আহমেদ জিতু শাওনকে গ্রেপ্তার করায় জেলা পুলিশ সুপার ও ডিবিকে ধন্যবাদ জানান। অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হলে এ ধরনের ঘটনা কমবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।