খুলনার লবণচরা থানার হরিণটানা এলাকার আশিবিঘা বালুর মাঠে একই দিনে পরপর দুই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও মাদক কারবারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ ছিল বলে জানিয়েছে র্যাব। সংস্থাটির দাবি, প্রতিপক্ষের ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার ধারাবাহিকতায় ঘটনা দুটি ঘটে। এ ঘটনায় আলামিন হাসান সাইফি, রাফিকুল ইসলাম রাকিব ও সাগর আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার গোপালগঞ্জের মাঝিগাতি বাজার ইউনিয়ন পরিষদের সামনে থেকে প্রথম দুজনকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-৬। পরে অভিযানে সাগরকেও গ্রে/প্তার করা হয়। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থান থেকে শটগান, গুলি, পিস্তল ও চাপাতিসহ কয়েকটি অস্ত্র উদ্ধারের দাবি করেছে র্যাব।
শনিবার সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-৬-এর অধিনায়ক নিস্তার আহমেদ জানান, টুটপাড়া, হরিণটানা ও লবণচরা এলাকায় মাদক কারবারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯ আগস্ট বিকেলে নাজমুল নামের এক ব্যক্তিকে প্রতিপক্ষের সদস্যরা তুলে নিয়ে যায় এবং পরে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। এর প্রতিশোধ নিতে সাইফি ও তাঁর পক্ষের ১৫ থেকে ১৬ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আশিবিঘা এলাকায় যায়। সেখানে মনজুরুল নামের একজনকে তাঁর বাবার সামনে গুলি ও কু/পিয়ে হত্যা করা হয় বলে দাবি র্যাবের।
র্যাব জানায়, সন্ধ্যায় মনজুরুলের হত্যার পর রাত সাড়ে ৮টার দিকে নাজমুলকেও হত্যা করা হয় এবং তাঁর মরদেহ আশিবিঘা এলাকায় ফেলে রাখা হয়। একই দিনে দুটি হত্যাকাণ্ডে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পর স্থানীয়দের সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে কিছু অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। পরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাতভর অভিযান চালিয়ে আরও অস্ত্র উদ্ধারের কথা জানিয়েছে র্যাব। সংস্থাটির দাবি, সাইফি একটি সন্ত্রাসী চক্রের হয়ে এলাকায় কার্যক্রম পরিচালনা করতেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে হত্যাসহ চারটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।