কিশোরগঞ্জের ভৈরবে রোববার দিবাগত গভীর রাতে মো. আল আমিন সৈকত নামে এক সাবেক পৌর কাউন্সিলর ও যুবলীগ নেতাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে অজ্ঞাতপরিচয়ের দুর্বৃত্তরা। নিহত আল আমিন ভৈরব পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ছিলেন এবং সর্বশেষ তিনি ভৈরব পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। গতকাল দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে ভৈরব পৌর শহরের টিনপট্টি এলাকার গোপাল জিউর মন্দিরের সামনে তার ওপর এই বর্বরোচিত ও নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, ঘটনার রাতে আল আমিন সৈকত ভৈরব বাজারে অবস্থিত নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ‘রিভারভিউ হোটেল’ থেকে মোটরসাইকেলযোগে রানীবাজার এলাকার ভাড়া বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হন। বাসার কাছাকাছি গলির নির্জন সড়কে প্রবেশ করতেই ওত পেতে থাকা ৩ থেকে ৪ জনের একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত তার গতি রোধ করে চারপাশ থেকে ঘিরে ধরে। এ সময় হামলাকারীরা তাকে লক্ষ্য করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে, যার ফলে তার মাথায় গুরুতর জখম হয় এবং একটি পায়ের রগ কেটে ফেলা হয়। তার চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে খুনিরা রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে ফেলে রেখে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
গুরুতর আহত আল আমিন সৈকতকে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে ভৈরবের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে রাত আনুমানিক ৩টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পৌঁছালে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ভৈরব শাখার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে রাজনৈতিক নাকি পারিবারিক শত্রুতা রয়েছে তা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি খুনিদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে।