স্বপ্ন ছিল স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে পবিত্র ওমরাহ পালন করবেন। সেই স্বপ্ন পূরণে দীর্ঘদিন ধরে টাকাও জমাচ্ছিলেন। কিন্তু গ্রামের মানুষের বছরের পর বছর দুর্ভোগ দেখে শেষ পর্যন্ত সেই সঞ্চয়ই দিলেন রাস্তা সংস্কারে।
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার শরাফপুর ইউনিয়নের কেয়াখালী গ্রামে স্ত্রীর ওমরাহ পালনের জমানো টাকা দিয়ে হাফেজ মো. ওয়াহিদুজ্জামান স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে ইট-বালু দিয়ে কেয়াখালী গ্রামের প্রায় ১৫০ ফুট রাস্তা সংস্কার করেছেন তিনি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায় ৫৬ বছরের পুরোনো রাস্তাটির ওই অংশ দীর্ঘদিন ধরে বেহাল ছিল। বিশেষ করে বর্ষাকালে কাদা ও পানিতে ডুবে যাওয়ায় শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিসহ গ্রামের সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো।
জরুরি পরিস্থিতিতে রোগীকে হাসপাতালে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ত। স্থানীয়দের অভিযোগ, সমস্যা সমাধানের জন্য জনপ্রতিনিধিদের কাছে একাধিকবার বলা হলেও স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি।
ওমরাহর সঞ্চয় গেল মানুষের দুর্ভোগ ঘোচাতে
এমন পরিস্থিতিতে গ্রামের মানুষের কষ্ট দেখে রাস্তা সংস্কারের উদ্যোগ নেন হাফেজ মো. ওয়াহিদুজ্জামান। বিষয়টি নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
তাঁর স্ত্রী স্বামীর সঙ্গে ওমরাহ পালনের জন্য দীর্ঘদিন ধরে অর্থ জমাচ্ছিলেন। তবে গ্রামের মানুষের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে সেই সঞ্চয় রাস্তা সংস্কারের কাজে ব্যয় করতে সম্মতি দেন তিনি।
এরপর ওই অর্থ দিয়ে প্রয়োজনীয় ইট-বালু কেনা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে নিয়ে প্রায় ১৫০ ফুট রাস্তার সংস্কারকাজ সম্পন্ন করেন ওয়াহিদুজ্জামান।
রাস্তা সংস্কারের ফলে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগে থাকা স্থানীয়দের চলাচল সহজ হয়েছে।
হাফেজ মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, “মানুষের সাহায্য করাও একটা ইবাদাত। আমার মনে হয়েছে, ওমরাহ কখনো নসিবে থাকলে করতে পারব। কিন্তু এ রাস্তাটা আগে করা উচিত।”
নিজেদের ধর্মীয় স্বপ্নের জন্য রাখা অর্থ গ্রামের মানুষের প্রয়োজন মেটাতে ব্যয় করার এই সিদ্ধান্ত স্থানীয়দের মধ্যেও সাড়া ফেলেছে। ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও সামর্থ্য অনুযায়ী মানুষের পাশে দাঁড়ানোর একটি মানবিক দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে এই দম্পতির উদ্যোগ।
ওমরাহ পালনের স্বপ্ন আপাতত পিছিয়ে গেলেও তাঁদের সঞ্চয়ের অর্থে এখন স্বস্তিতে চলাচল করতে পারছেন কেয়াখালী গ্রামের মানুষ।