সৎমায়ের সাথে গোসল করতে গিয়ে আর ঘরে ফেরা হয়নি সাত বছরের অবুঝ শিশু জাকিয়া আক্তার নিহার। নিখোঁজের দুদিন পর সুরমা নদীর জলে ভেসে উঠল তার ক্ষতবিক্ষত নিথর দেহ। সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় নিহা নামের ওই শিশুকে নির্মমভাবে হত্যা করে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার অভিযোগে তার সৎমা আম্বিয়া বেগমকে (৫০) আটক করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার কুরবাননগর ইউনিয়নের গোদারগাঁও এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় নিহত শিশুর বাবা তাজ উদ্দিন বাদী হয়ে আম্বিয়া বেগমসহ অজ্ঞাতনামা ২-৩ জনকে আসামি করে সুনামগঞ্জ সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোদারগাঁও গ্রামের রাজমিস্ত্রি তাজ উদ্দিনের প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর তিনি আম্বিয়া বেগমকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের পর থেকেই প্রথম পক্ষের সন্তানদের ওপর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অমানুষিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন আম্বিয়া।
গত ১৭ আগস্ট বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টার মধ্যে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় শিশু নিহা। স্বজনদের অভিযোগ, সৎমা আম্বিয়া বেগম জোরপূর্বক শিশুটিকে বাড়ির পাশের সুরমা নদীতে গোসল করাতে নিয়ে যান। পরবর্তীতে নিহা একা বাড়ি ফিরে না আসায় পরিবারের সন্দেহ বাড়ে। এ ঘটনায় ১৮ আগস্ট সুনামগঞ্জ সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হলে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল নদীতে ব্যাপক তল্লাশি চালায়।
পরদিন ১৯ আগস্ট সকাল ৬টার দিকে গৌরারং ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের কাছে সুরমা নদীতে নিহার মরদেহ ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। সুরতহাল প্রতিবেদনে নিহার মরদেহের ডান উরুর ওপরে ও নিচে দুটি গুরুতর কাটা জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
সুনামগঞ্জ সদর থানা-পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আম্বিয়া বেগম তাঁর সৎমেয়ে নিহাকে হত্যার পর নদীতে ফেলে দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছে। আটক আম্বিয়া বেগম বর্তমানে থানা হেফাজতে রয়েছেন এবং তাঁকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।