নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে এফিডেভিটের মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে মুসলিম তরুণীকে বিয়ের আট বছর পর দুই সন্তান রেখে ফের হিন্দু হয়ে আরেক নারীকে বিয়ের অভিযোগ; দুই সন্তানের পিতৃপরিচয় নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ প্রথম স্ত্রী।
আদালতে এফিডেভিটের মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে নাম পরিবর্তন, এরপর দীর্ঘ আট বছর ধরে ধর্মকর্ম পালন করে সংসার। তবে দুটি সন্তান জন্মের পর প্রথম স্ত্রীর অগোচরে পুনরায় হিন্দু ধর্মে ফিরে গিয়ে আরেক নারীকে গোপনে বিয়ে করার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এর ফলে জন্ম নেওয়া দুটি নিষ্পাপ সন্তানের ভবিষ্যৎ ও সামাজিক পিতৃপরিচয় নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও বিপাকে পড়েছেন এক অসহায় মুসলিম নারী।
চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায়।
অভিযুক্ত যুবকের নাম অর্জুন ধর হীরা ওরফে হীরা ধর (৩০)। তিনি খালিয়াজুরী উপজেলার শালদীঘা গ্রামের মৃত জয় কৃষ্ণধরের ছেলে। এ ঘটনায় প্রতারণা ও যৌতুক নির্যাতনের অভিযোগ এনে অর্জুন ধর হীরা ও তাঁর মা কৃষ্ণা রানী ঘোষের (৫৮) বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন প্রথম স্ত্রী শিপুল আক্তার খানম (২৭)। ভুক্তভোগী ও অভিযুক্ত উভয় পক্ষই মোহনগঞ্জ পৌরশহরের দৌলতপুর এলাকার বাসিন্দা।
ভুক্তভোগী, মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোহনগঞ্জ পৌরশহরের দৌলতপুরে বসবাসের সময় শিপুল আক্তারের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে অর্জুন ধর হীরার। ২০১৪ সালে তিনি আদালতের মাধ্যমে এফিডেভিট করে ধর্মান্তরিত হন এবং ‘মো. হীরা মিয়া’ নাম ধারণ করে শিপুলকে বিয়ে করেন। দাম্পত্য জীবনে ২০১৫ সালে তাঁদের কন্যা জান্নাতুল হিয়া এবং ২০২২ সালে পুত্র সন্তান আব্দুল্লাহর জন্ম হয়। বিয়ের পর হীরা নিয়মিত নামাজ-রোজা পালন করলেও কাবিননামা রেজিস্ট্রি করতে নানা অজুহাতে গড়িমসি করতে থাকেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০২২ সালে দ্বিতীয় সন্তান জন্মের পরপরই মায়ের প্ররোচনায় অর্জুন ধর পুনরায় হিন্দু ধর্মে ফিরে যান এবং পার্শ্ববর্তী এলাকার এক হিন্দু তরুণীকে গোপনে বিয়ে করেন। বিষয়টি জানতে পারলে হীরা মাদকাসক্ত অবস্থায় শিপুলের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং যৌতুকের চাপ দিতে শুরু করেন। প্রতিকার চেয়ে শিপুল ২০২৫ সালের মে মাসে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে অভিযোগ করলে সম্মতিতে একটি আপসনামা ও এফিডেভিট সম্পাদিত হয়। এতে সন্তানদের পড়াশোনার খরচ ও বাসস্থান নিশ্চিতের শর্ত থাকলেও হীরা তা মানেননি।
সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে শিপুল আক্তার খানম বলেন, “স্বামী ও শাশুড়ি পরিকল্পিতভাবে আমার সরলতার সুযোগ নিয়ে প্রতারণা করেছেন। সমাজে আমার নিষ্পাপ সন্তানেরা কী পরিচয়ে বড় হবে, তা নিয়ে আমি গভীর শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছি।”
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অর্জুন ধর হীরা দাবি করেন, “অনেক আগেই আমি শিপুলকে ডিভোর্স দিয়েছি। এরপর আমি কী করব, সেটা তাঁর জানার বিষয় নয়।”
বাদীপক্ষে আইনজীবী মোশারফ হোসেন শুভ জানান, গত ২০ জুলাই নেত্রকোনা সদর আমলি আদালতে মামলাটি দায়ের করা হলে আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নেত্রকোনা পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জামান আলী জানান, মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং দ্রুতই আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।