পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান ও ন্যায়বিচারের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন মানবাধিকারকর্মী ডা. মাহরাং বেলুচ। এবার তাকেই যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি সন্ত্রাসবিরোধী আদালত। খবর বিবিসির।
সোমবার আদালত মাহরাং বেলুচ ও সহকর্মী কর্মী সিবঘাতুল্লাহ শাহকে সন্ত্রাসবাদ, রাষ্ট্রদ্রোহ এবং হত্যার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে এই রায় ঘোষণা করে। ২০২৪ সালে গওয়াদরে এক বিক্ষোভ চলাকালে এক আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল। তবে অভিযুক্তরা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং উচ্চ আদালতে আপিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
রায়ের পর মাহরাংয়ের বোন নাদিয়া বেলুচ বিবিসিকে বলেন, পরিবার এই সিদ্ধান্ত মেনে নেয়নি এবং তারা উচ্চ আদালতে এর বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন।
৩৩ বছর বয়সী মাহরাং বেলুচের মানবাধিকার আন্দোলনের পেছনে রয়েছে ব্যক্তিগত এক বেদনাদায়ক ইতিহাস। ২০০৯ সালে, যখন তার বয়স মাত্র ১৬ বছর, তখন তার বাবা ও রাজনৈতিক কর্মী আবদুল গফ্ফার লাঙ্গোভকে কথিতভাবে নিরাপত্তা বাহিনী আটক করে নিয়ে যায়। প্রায় তিন বছর পর পরিবারের কাছে খবর আসে যে তার মরদেহ বেলুচিস্তানের লাসবেলা জেলায় পাওয়া গেছে।
মাহরাং দাবি করেন, তার বাবার মরদেহে নির্যাতনের স্পষ্ট চিহ্ন ছিল। সেই ঘটনার পর থেকেই তিনি বেলুচিস্তানে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান ও বিচার দাবির আন্দোলনে সক্রিয় হয়ে ওঠেন।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, গত দুই দশকে হাজারো বেলুচ নাগরিক নিখোঁজ হয়েছেন। তাদের দাবি, অনেককে বিচারিক প্রক্রিয়া ছাড়াই আটক করা হয়েছে, নির্যাতন করা হয়েছে কিংবা হত্যা করা হয়েছে। তবে পাকিস্তান সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, নিখোঁজদের অনেকেই বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীতে যোগ দিয়েছেন অথবা দেশ ছেড়ে চলে গেছেন।
গত বছর নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পাওয়া মাহরাং বেলুচিস্তানে নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারের অধিকারের আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে দেওয়া এই রায় দেশ-বিদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।