টাঙ্গাইলের মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জাকির হোসেন রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে প্রতিমাসে বাড়ি ভাড়া বাবদ ২০ হাজার ২৫৪ টাকা উত্তোলন করলেও বছরের পর বছর ধরে অফিস কক্ষেই আবাসন তৈরি করে বসবাস করছেন। এমনকি মাঝে মাঝে তার স্ত্রী গ্রামের বাড়ি থেকে এখানে এলে তাকে নিয়ে অফিস কক্ষেই রাত্রিযাপন করার অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, টাঙ্গাইল মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জাকির হোসেন ২০২৪ সালের ১৭ এপ্রিল থেকে ৯ জুন পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তিনি হজ্বে যাওয়ার জন্য ছুটি নেন।
পরবর্তীতে হজ্ব থেকে ফিরে পুনরায় ওই বছরের ১৮ জুলাই যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকেই ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি তার অফিস কক্ষকেই আবাসিক ফ্ল্যাট বানিয়ে বসবাস শুরু করেন এবং প্রতিমাসে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বাড়ি ভাড়া বাবদ ২০ হাজার ২৫৪ টাকা উত্তোলন করে যাচ্ছেন।
এ নিয়ে অফিসের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী মুখ খোলার সাহস পাচ্ছেন না।
টাঙ্গাইলের বটতলা মোড়ে অবস্থিত পাঁচতলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় টাঙ্গাইল মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের কার্যালয়।
সেখানে উপপরিচালক মো. জাকির হোসেনের অফিস কক্ষে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে বিছানাপত্র। এর পাশেই টেবিলে বসে দাপ্তরিক কাজ করতে দেখা যায় তাকে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে অফিসের একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী জানান, স্যার (জাকির হোসেন) এখানে যোগদানের পর থেকেই অফিস কক্ষেই বসবাস করছেন। মাঝে মাঝে তার স্ত্রী আসেন এবং এখানেই থাকেন।
এসব বিষয়ে টাঙ্গাইলের মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জাকির হোসেন বিষয়টি স্বীকার করে জানান, তিনি ষষ্ঠ গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন এবং তার মূল বেতনের ৩৫ শতাংশ হিসেবে বাড়ি ভাড়া বাবদ প্রতিমাসে ২০ হাজার ২৫৪ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে উত্তোলন করছেন। তবে অফিস কক্ষে বসবাস করাটা যে সরকারি বিধি অনুযায়ী অনিয়ম, সেটিও তিনি স্বীকার করেছেন।