গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী ২০২৫ সালেও সরকারি সেবা পেতে নাগরিকদের বড় অংশকে ঘুস ও অনিয়মের মুখে পড়তে হয়েছে।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের জাতীয় খানা জরিপে উঠে এসেছে, পাসপোর্ট, বিআরটিএ, বিচার-সংশ্লিষ্ট সেবা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ও ভূমি খাত দুর্নীতির শীর্ষে রয়েছে। সেবা নিতে গিয়ে হয়রানি, অনিয়ম ও ঘুসের চাপ যে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন বাস্তবতা হয়ে উঠেছে, জরিপের তথ্য সেই উদ্বেগকেই সামনে এনেছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে ‘সেবা খাতে দুর্নীতি: জাতীয় খানা জরিপ ২০২৫’ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। ১৮টি খাত ও সেবার ওপর ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে এ জরিপ চালানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, সার্বিকভাবে দেশের ৬৩ দশমিক ৬ শতাংশ পরিবার অন্তত একটি সেবা খাতে ঘুসের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে পাসপোর্ট সেবায় ঘুসের শিকার হওয়া খানার হার সর্বোচ্চ ৭৬ দশমিক ৬ শতাংশ। গ্রামাঞ্চলে এই হার ৭৯ দশমিক ১ শতাংশ এবং শহরাঞ্চলে ৭১ দশমিক ৮ শতাংশ।
জরিপে পাসপোর্টের পর বিআরটিএতে ঘুসের হার ৬৩ দশমিক ৫ শতাংশ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ও কৃষি খাতে ৪৯ দশমিক ৩ শতাংশ এবং ভূমি সেবায় ৪৭ দশমিক ৬ শতাংশ হিসেবে উঠে এসেছে। একই সঙ্গে গড় ঘুস গ্রহণের ক্ষেত্রেও পাসপোর্ট, বিআরটিএ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, কৃষি ও ভূমি সেবা খাত এগিয়ে রয়েছে। প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।